চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দেড় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান শাখার ৪ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানী টিম।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুদকের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মশিয়ুর রহমানের নেতৃত্বে দুদক কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের ওই  ৪  কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন, ব্র্যাক ব্যাংক গুলশান শাখার কাস্টমার রিলেশন অফিসার-১ মো. আরিফুজ্জামান, সেলস ও সার্ভিস শাখার অফিসার লায়লা দারাজ, কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার মোশারাত পারভীন ও ডিপোজিট মবিলাইজেশন ইউনিটের এসএমই ব্যাংকিং ডিবিশনের এসোসিয়েট রিলেশনশীপ ম্যানেজার  এসএম সাইফুল ইসলাম।
এদিকে কাস্টমার  রিলেশন  অফিসার মো.নাজমুল হকের  দুদকে  আসার কথা ছিল । কিন্তু  তিনি আসেননি। বর্তমানে তিনি  ব্য্যাক ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে গেছেন। যার ফলে তিনি আজ ১৫ মে  দুদকে  হাজির হননি বলে জানা যায়।
সূত্র মতে, বাংলদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে ব্র্যাক ব্যাংকের ওই জালিয়াতির বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নথি পাঠিয়েছে।
বাংলদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখার কাস্টমার রিলেশন অফিসার-১ মো. আরিফুজ্জামান তাদের গ্রাহক ’উর্মি ফ্যাশন গ্যালারীর (হিসাব নং-১৫০১ ২০২০ ৮৮২১ ৩০০১ এবং পিন নং- ১৪৩৮৫) এর পরিচালনাকারী। সেলস ও সার্ভিস শাখার অফিসার লায়লা দারাজ তাদের গ্রাহক ’উর্মি ফাশন গ্যালারীর (হিসাব নং-১৫০১ ২০২০ ৮৮২১ ৩০০১) খোলার কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার মোশারাত পারভীন ’উর্মি ফাশন গ্যালারীর (হিসাব নং-১৫০১ ২০২০ ৮৮২১ ৩০০১) অনুমোদনকারী।  ম্যানেজার  এসএম সাইফুল ইসলাম (হিসাব নং-১৫৪৯২০২১৭০৯৫৯০০১)  অনুমোদনকারী।
এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান  শাখার কাস্টমার  রিলেশন  অফিসার মো.নাজমুল হক (হিসাব নং- ১৫৪৯২০২১৭০৯৫৯০০১)টি  পোস্ট ফলিও নং-১৪৩৬৯ মাধ্যমে খোলেন।
অভিযোগ  রয়েছে চেক  জালিয়াতির মাধ্যমে  ব্র্যাক ব্যাংকের   কর্মকর্তারা  এইচএসবি ব্যাংকের গ্রাহক ‘সিআই সল্ট লিমিটেডের ’(হিসাব নং-০০১ ১৪২৩৪৮ ০১১) এর ৪টি চেক নং-০৩৫৪২৯৭,তাং-০৩/০৬/২০১৩,টাকার পরিমান ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার  ৫০ টাকা, চেক নং-০৩৫৪২৯৮,তাং-২৭/৫/২০১৩ টাকার পরিমান ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা, চেক নং-০৩৫৪২৯৯ তাং-০২/০৬/২০১৩ টাকার পরিমান ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা ,চেক নং-০৩৫৪৩০০ তাং-০৫/০৬/২০১৩ টাকার পরিমান ৫৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০ টাকা সরিয়ে নিতে সহায়তা  করেন।
অর্থাৎ মোট ১ কোটি ৪৬ লাক ৯৮ হাজার ২ শত টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে এসিআই সল্টের এ্যাকাউন্টে থেকে কেটে নিয়ে উর্মি ফ্যাশন গ্যালারীর একাউন্টে জমা দেখিয়েছে। পরে ওই ৪টি  নকল চেক সৃজন করেন এবং ব্র্যাক ব্যাংকে  ডিজিটাল (ইউবিএ) মেশিনের  মাধ্যমে পরীক্ষায় সঠিক ঘোষণা দিয়ে টাকা উত্তোলনের সুযোগ করে দেন।
[b]ঢাকা, একে, ১৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কে বি[/b]