ঢাকা: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিরাজমান বিরূপ প্রভাবে ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।  এর ফলে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বহন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এর মোকাবেলায় কেন্ত্রীয় ব্যাংক বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বলে জানিয়েছে।

আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, দেশে বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কৃষি ও শিল্প খাতের উপকরণ ও পণ্যাদির স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্রিত হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এতে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির দায়ভার এককভাবে ব্যাংকগুলোর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কেননা এর ফলে ব্যাংকগুলো রুগ্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বহন করা উচিত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যথেষ্ট নীতি নমনীয়তা দেখিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ইতোমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইডিএফ ঋণের সুদহার হ্রাস

দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের স্বাভাবিক শিপমেন্ট কর্মকান্ডে বিঘ্রিতাজনিত ক্ষতি কাটিয়ে উঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণের সুদহার ১ শতাংশ হ্রাস করেছে। আগামী ৬ মাসের জন্য ইডিএফ থেকে নেয়া ঋণের জন্য নতুন সুদহার কার্যকর হবে।

এসএমই ঋণের ক্ষেত্রে বিবিধ সহায়তা

এসএমই খাতে প্রদত্ত ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের বিষয়টি ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবেচনা করা, অশ্রেণীকৃত ঋণ পুনর্গঠনের মেয়াদকাল যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ, প্রয়োজনে ঋণ ব্লক হিসাবে স্থানান্তর এবং সুদহার নির্ধারণে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদনমুখী কর্মকান্ড এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অর্থায়ন নির্বিঘ্র রাখা

কৃষি ও এসএমই ব্যতীত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসায়িক কর্মকা- অব্যাহত রাখা ও ঋণ আদায় নিশ্চিতকল্পে প্রদত্ত ঋণ সুবিধা চলমান রাখার জন্য ডাউন পেমেন্ট গ্রহণ ও মেয়াদকাল নিরূপণের বিষয়টি ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিবেচনা করা, পুনর্গঠনের মেয়াদকাল যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা এবং এসব ক্ষেত্রে ব্যাংকের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, এখন থেকে আগামী ৬ মাস এসএমই খাতের ন্যায় কৃষি খাতের ক্ষেত্রেও ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতেই ঋণ পুনঃতফসিলকরণের জন্য ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডাউন পেমেন্ট ও পরিশোধের মেয়াদকাল যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে পারবে। তবে প্রয়োজনমতো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিও তাদের নিতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা দ্রুতই করছে।

অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপকে সহায়তা

সম্প্রতি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপকে সহায়তার জন্য বেশকিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন-বিদ্যমান ইডিএফ নীতিমালার আওতায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের অনুকূলে ১ শতাংশ হ্রাসকৃত সুদহারে ২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ সুবিধা প্রদান করা, বৈদেশিক মুদ্রায় দীর্ঘ মেয়াদে ৩টি বিদেশী ব্যাংক কর্তৃক আরো ২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ সুবিধা প্রদান, স্থানীয় মুদ্রায় বিদ্যমান দায়-দেনা অর্থায়নকারী ব্যাংকের সম্মতি সাপেক্ষে ডাউন পেমেন্ট ব্যতিরেকে এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ পাঁচ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল/পুনর্গঠন করা, বিদ্যমান বকেয়া ঋণ মেয়াদপূর্তিতে ৬ মাস করে ৩ বছর পর্যন্ত শুধুমাত্র আসল নবায়ন করা ইত্যাদি।

জনস্বার্থে ছুটির দিনে ব্যাংক খোলা রাখা

জনস্বার্থে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারেও (৬ ও ২০ ডিসেম্বর ২০১৩) সীমিত পরিসরে তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলো ক্যাশ ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খোলা রাখা হয়েছিল। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুভূত হলে জনসাধারণের লেনদেনের সুবিধার্থে অনুরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে, এরূপ ছুটির দিনে অফিসে আসা কর্মীগণ যেন সপ্তাহে অন্ততঃ এক দিন ছুটি ভোগ করতে পারেন তা অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার জন্যও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।