রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনানীতে কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র রযেছে। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি বনানী, গুলশান ও বারিধারা এলাকার পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অপহরণের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে।  ঘন ঘন কৌশল পরিবর্তন করায় চক্রটিকে ধরা তো দূরের কথা চক্রটি ছিল পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
অবশেষে রোববার বনানী থানা পুলিশ পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে এই অপহরণকারী চক্রের মোট ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়েছে। পরিচালিত ওই অভিযানে ৫ টি বিদেশী পিস্তলসহ গুলি, বোমা, ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করে পুলিশ। গুলশান জোন পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 
বনানী পুলিশ জানায়, রাজধানীতে এই অপরহণকারী চক্রটি ছিল খুবই সক্রিয়। এই চক্রটি বিশেষ করে অভিজাতপাড়া বলে খ্যাত বনানী, বারিধারা ও গুলশান এলাকায় অপহরণের সাথে জড়িত। চক্রটি অভিজাত পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতো। চক্রটির এধরণের অপকর্মের বিরুদ্ধে গুলশান জোনের একাধিক থানায় অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, শনিবার দিনগত রাতে এই চক্রটি আবারো অপহরণের জন্য নামে। বনানীর এফ ব্লকের ৭ নং রোড থেকে  প্রাইভেট কারসহ (ঢাকা মেট্রো গ-১৭-৪৫৫৯) সোহার্ত নামের এক ছাত্রকে অপহরণ করে।
বিষয়টি জানতে পেরে বনানী থানা পুলিশের একটি দল অপহরণকারী চক্রটির পিছুনেয়। বনানীর ১ নাম্বার রোডের বিটিসিএল আবাসিক এলাকায় গিয়ে অপহরণকারী চক্রটি পুলিশের উপস্থিতি টের পায়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে অপহরণকারী সদস্যরা। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরক্ত পুলিশ এসে অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করে। বাকি ৪ সদস্য পালিয়ে যায়। আটককৃতরা হলেন, মুসাউয়ের জুনায়েদ আব্দুস সালাম(২৬), আফসারা রশিদ(২৩) ও মাইনুদ্দিন(২৮)।
তাদের কাছ থেকে দুইটি চোরাই গাড়ি, দুইটি বিদেশী পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, চায়নিজ কুড়াল, ছোরা, চাপাতি ও প্রচুর পরিমাণ গাড়ি, বাড়ি ও হ্যান্ডকাপের চাবি উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেফতারকৃত জুনায়েদের  তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৯টার দিকে জুনায়েদকে সাথে নিয়ে বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার এফ ব্লকের ১ নং রোড সংলগ্ন ১০৫ নাম্বার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে তিনটি বিদেশী পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, ১৭ রাউন্ড
গুলি, বোমা ওয়্যারলেস, হ্যান্ডকাপ, প্রচুর পরিমাণে ছোরা, চাকু ও অবৈধভাবে রাখা কয়েকটি বন্য পশুর চামড়া উদ্ধার করা হয়। পশুর চামড়ার মধ্যে দুইটি কালো ভল্লুক, একটি কুমির ও একটি বাঘের। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও বাসায় পাওয়া গেছে। এসময় ওই বাসা থেকে রোকসানা ইয়াসমিন(৫০), দাড়োয়ান তুষার দিবোরো(২৭) নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোকসানা ইয়াসমিন জুনায়েদের মা বলে জানা গেছে।
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ভূইয়া মাহবুব হাসান টাইমনিউজবিডি’কে বলেন, এই অপহরণকারী চক্রটি অভিজাত পাড়ায় অপহরণের কাজ করে আসছে। চক্রটি অভিজাত পরিবারের বাচ্চাদের অপহরণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে। অনেক অভিযোগও রয়েছে থানায়। আমরা উর্ধ্বোতন পুলিশের সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এব্যপারে গুলশান জোনের ডিসি খন্দকার লুৎফুল কবীর টাইম নিউজবিডি’কে জানান, এই চক্রটিকে ধরার জন্য বনানী বারিধারা এলাকায় ২৪ ঘন্টার রাউন্ড ডিউটি চালু করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাক ধারী পুলিশ সদস্যরাও দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা করে আসছে চক্রটিকে ধরার জন্য।
তিনি জানান, এই চক্রটির সাথে আর কোনো চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া এই চক্রটি ইয়াবা ও পশুর চামড়ার অবৈধ ব্যবসার সাথেও জড়িত।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) //এএইচ[/b]