রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস আজ। গত বছরের এই দিনে সাভারে নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়েছিল। ওই ধসের ঘটনায় সহাস্রাধিক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে। যাদের বেশির ভাগই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের একটি হিসেবে এরই মধ্যে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ওই দুর্ঘটনা।
এ দুর্ঘটনায় যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন তারাও দুঃসহ জীবন যাপন করছেন। ২০ দিনের উদ্ধার তৎপরতায় রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এক হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১৩৬ জনে।
যেদিন রানা প্লাজা ভেঙ্গে পড়ে তার আগের দিনই ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। ওই ফাটল বিষয় অগ্রাহ্য করেই পরের দিন ভবনটির পাঁচটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের কাজে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ভবনটির তৃতীয় তলা থেকে শুরু হয়ে নবমতলা পর্যন্ত ছিল পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানা। নিচতলা ও দোতলায় শপিং মল। ২৭০টি দোকান। সেই সাথে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখা।
২৪ এপ্রিল ২০১৩, বুধবার সকাল ৮টা। রানা প্লাজার শপিং মলের সব দোকান বন্ধ। বন্ধ ব্র্যাক ব্যাংকের শাখাটিও। শুধু পাঁচটি পোশাক কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা ভবনের সামনে ইতস্ত ঘোরাঘুরি করছে। আশপাশে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে।
তখন ঘড়ির কাটায় সকাল আটটা সাতচল্লিশ মিনিট শ্রমিকেরা ঢুকে পড়েছে রানা প্লাজায়। তৃতীয় তলা থেকে নবমতলা, সবগুলো ফ্লোরেই শুরু হয়ে গেছে কাজ। নয়টা বাজতে মাত্র তের মিনিট বাকী আছে। বিল্ডিংটা একটা মোচড় খেয়ে হঠাৎ করে তিন সেকেন্ডের মধ্যে পড়ে গেল। তারপর ধুলায় অন্ধকার হয়ে গেল। শুরু হয় ভেতর থেকে প্রাণ নিয়ে বেরিয়ে আসতে শ্রমিকদের আর্তচিৎকার। ওই সময় মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় সেই চিত্র ধারণ করেন একজন পথচারী। ভিডিওটি পরবর্তীতে বাংলাদেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল সময় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়।
এর পরের ঘটনাগুলো দ্রুতই ঘটতে থাকে। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে চলে আসে সেনাবাহিনী। তাদের সাথে দমকল, পুলিশ ও বহু অপেশাদার স্বেচ্ছাসেবক। একের পর এক বের হতে থাকে মৃতদেহ। আহতদের জায়গা হতে থাকে রানা প্লাজার অদূরের বেসরকারি হাসপাতাল এনাম মেডিকেল কলেজে। আর নিহতদের স্থান হয় অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দায়। প্রতিদিনই বাড়তে থাকে লাশের স্তুপ। আর কমতে থাকে জীবিতদের উদ্ধারের আশা।
এ ঘটনায় ঢাকার জেলা প্রশাসক অফিসে রক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত এবং এক হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যান। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১৩৬ জনে।
সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের লাশ দাফনের জন্য প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকার করে ৮৪৪ জনকে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার জন্যও ৫ হাজার টাকা করে দেয় সরকার।
ঢাকা, ২৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ
শ্রেণীহীন
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস আজ
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস আজ। গত বছরের এই দিনে সাভারে নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়েছিল। ওই ধসের ঘটনায় সহাস্রাধিক শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছে। যাদের বেশির ভাগই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের একটি হিসেবে এরই মধ্যে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ওই দুর্ঘটনা





