সাতক্ষীরায় বেতনা নদী খননের নামে জলবায়ূ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। নদী কেটে তীরে মাটি ফেলে বানানো হচ্ছে খাল। নদীর তলদেশে নামে মাত্র ড্রেজিং করে নকশা অনুযায়ী গভীরতা দেখানো হচ্ছে। এ কারণে বৃষ্টি হলেই পাড়ের মাটি ধুয়ে আবারও নদী ভরাটের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।  
জানা যায়, একদশক আগেও প্রমত্তা বেতনায় লঞ্চ চলাচল করত। সাতক্ষীরায় ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারনের প্রধান এই নদী এখন মৃত প্রায় খাল। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এই এলাকার শতাধিক গ্রাম। মানুষ ঘর বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় স্কুল কলেজ মসজিদ মাদরাসাসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে।
এই এলাকার মানুষকে রেহাই দিতে সাতক্ষীরার সুপারীঘাটা থেকে ঝাউডাঙ্গা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার নদী খননের কাজ শুরু হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্টের অর্থায়নে একাজে চুক্তিমূল্য হয়েছে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। তবে খনন কাজে অনিয়ম পরিণত হয়েছে নিয়মে।
পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তা আর ঠিকাদাররা এক সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই টাকা লুটপাট করার ব্যবস্থা করছে। এই নিয়ে সাতক্ষীরা এক আসনের এমপি মোস্তফা লুৎফুল্লাহ নিয়মানুযায়ী নদী খননের জন্য জোর প্রতিবাদ জানিয়ে সাতক্ষীরারা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নাম মাত্র মাটি কেটে পাঁড় উচু করে ১৬ ফুট গভীরতা দেখানো হচ্ছে। এছাড়া দু’পাড়ের প্রস্থ গড়ে ১শ’১০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষা নামলেই এই মাটি  নদীতে পড়ে আবারও ভরাট হয়ে যাবে।
ঠিকাদারি কাজে দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার নাগরিক সমাজ। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, নকশা অনুযায়ী নদী খনন না হলে ঠিকাদারদের জরিমানা করাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
[b]ঢাকা, ৬ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসআর[/b]