বরিশালের বানারীপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সূর্য্যমণি মেলা ৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে। মেলাকে ঘিরে চলছে হস্থশিল্পীদের ব্যস্ত সময়।
বানারীপাড়া উপজেলার আহম্মদাবাদ বেতাল গ্রামে প্রতি বছর মাঘ থেকে ফাল্গুনের শেষ পর্যন্ত এই মেলা চলে। স্থানীয় বয়বৃদ্ধদের মতে এ মেলার বয়স ২০০ বছরেরও বেশি। ব্রিটিশ শাসন আমলে এ মেলার প্রচলন করা হয়। প্রতি বছর মাঘী সপ্তমী তিথির প্রথম প্রহরে সূর্যদয়ের পূজোর মধ্য দিয়ে প্রায় ১০ একর জমিজুড়ে মেলা বসত।
শুরু দিকে মেলার আকর্ষণ ছিল প্রায় ২০ মণ ওজনের কষ্টি পাথরের তৈরি সূর্যোদয়ের একটি মূর্তি। পাকিস্তান শাসন আমলে মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়। সর্বশেষ প্রজন্মের প্রতিনিধি পুরোহিত কৃষ্ণকান্ত ভট্টাচার্য এখন সূর্যোদয়ের পূজো দিয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।
এ মেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে শহুরে জীবন ধারার কোনো আধিপত্য নেই।
সাদামাটির গন্ধ মেশানো খেটে খাওয়া মানুষ তেল জবজবে চুলে সিঁথি করে মেলায় আসে। কুঁড়ে ঘরের আদলে গড়া দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। ধোঁয়া ওঠা গরম তেলের কড়াইয়ে ভাজা জিলাপি খায়। রাতে যখন বাড়ি ফেরে তখন তাদের ঝোলায় থাকে সংসারের প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্রের সঙ্গে প্রিয়জনের জন্য কেনা লাল ফিতে, রেশমী চুড়ি, আলতা কিংবা বাঁশের বাঁশি।
সমুদ্র থেকে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন প্রকার শামুক ও ঝিনুকের তৈরি মেয়েদের অলঙ্কার। যা সচারচর পাওয়া যায় না।
মেলায় দোকানীরা দোকানে পসরা সাজিয়ে ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় আসে। মেলার সূর্য পূজা কমিটির সভাপতি বাদল কৃষ্ণ সাহা ও মেলা আয়োজক কমিটির সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা জানান, মাসব্যাপী মেলা চলার সব রকমের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে।
মেলায় শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সব প্রকার ফার্নিচার, নাগরদোলা, পুতুলনাচ, সার্কাসসহ বাহারি খাবার ও হস্থশিল্প থাকবে।

[b]বরিশাল, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]