ঢাকা: ইন্দোনেশিয়া অর্থনীতি বেগবান করতে দেশটিতে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ, বিজ্ঞাপন ও ওষুধশিল্পে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
গত মঙ্গলবার সরকারি এক ঘোষণায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। নতুন নীতিমালায় ওষুধ কোম্পানিগুলোয় বিদেশী বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশে উন্নীত হবে। বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলোয় বিদেশীরা সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে পারবে। আগে এ হার ছিল ৪৯ শতাংশ।
এতে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে এসব খাতের কোম্পানিগুলোকে আরো প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। কিমিয়া ফার্মা, ইন্দোফার্মা কিংবা কালবি ফার্মার মতো বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর মুনাফা আরো কমে আসতে পারে এতে।
ফরচুন ইন্দোনেশিয়ার মতো বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোক্তারা লাভবান হবেন।
বিদ্যুৎ খাতে আগে ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রাখতে পারত বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে তা ১০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর নিজেদের শেয়ারের একটি অংশ সরকারের কাছে হস্তান্তরে বাধ্য থাকবে তারা।
এদিকে চলতি হিসাবে বড় ঘাটতির কারণে এ বছর অনেক বিদেশী বিনিয়োগকারী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এ দেশ থেকে চলে গিয়েছেন। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে ২০ শতাংশ কমেছে ইন্দোনেশীয় রুপিয়ার দাম।
আগামী বছরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রণোদনা প্রত্যাহারের কারণে আরো বিনিয়োগকারী ইন্দোনেশিয়া ছাড়তে পারে— এমন আশঙ্কা রয়েই গেছে। সরকারের বিনিয়োগনীতি অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এছাড়া ফেডারেল রিজার্ভের প্রণোদনা প্রত্যাহারের ফলে সহজ ডলারের সরবরাহ কমে আসবে। এতে বিদেশী বিনিয়োগ তহবিলগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোয় তুলনামূলক লাভজনক কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে পিছিয়ে আসবে। মে মাসে প্রণোদনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর কয়েক মাস এ প্রবণতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় মুদ্রায় তাদের সম্পদগুলোকে ডলারে রূপান্তর করা শুরু করে, যা রুপিয়ার অবমূল্যায়ন ত্বরান্বিত করে।
আবারো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইন্দোনেশিয়ার শ্লথ অর্থনীতি আরো পিছিয়ে যেতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মাসের শুরুর দিকে বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশটিকে অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
অর্থনীতিমন্ত্রী হাত্তা রাজাসা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতেই এসব খাতে বিদেশী বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থনীতির জন্য ‘সংবেদনশীল’ খাতগুলোয় কয়েক যুগ ধরেই বিদেশী বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমার ওপর একটি বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে ইন্দোনেশিয়া। কয়েকটি খাতে এখনো বিদেশী বিনিয়োগের কোনো সুযোগই নেই।
পরিবর্তিত বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সরকারি সূত্রগুলো। প্রেসিডেন্ট সুশিলো বামবাং ইউধোয়নোর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আইনটি।
ইন্দোনেশিয়ার এমপ্লয়ার’স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সফজান ওয়ানান্দি বলেন, এ পরিবর্তনের ফলে ইন্দোনেশিয়ায় একটি উন্নততর বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য আইনি নিশ্চয়তাও বাড়বে।
এর আগে একবার ইন্দোনেশিয়ার বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে শতভাগ বিদেশী পরিচালনায় ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। ভারতের জিভিকে পাওয়ার অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও দক্ষিণ কোরীয় ইনচান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনাও এগোচ্ছিল। আরো অনেক কোম্পানি এ কাজগুলো পাওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার পিছিয়ে যায়। এবারের উদারীকরণকে অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে এর মাত্রা ও ব্যাপ্তি আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
জাকার্তাভিত্তিক পিটি স্যামুয়েল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ লানা সলিস্টিয়ানিঙ্গিস বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগের ধরন ও খাতের বৈচিত্র্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বিনিয়োগকারীরা এ বাজারে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।সূত্র: খবর রয়টার্স





