স্থগিত জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রিফারেন্স (জিএসপি) বা অগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৬ শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে অনুরোধ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
তিনি বলেন, জিএসপি নিয়ে রাজনীতি হলে কখনোই তা ফিরে পাব না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে  ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন,  জিএসপি সুবিধা পেতে ড. ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংক এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিকে টেনে আনা হলে আমরা কখনোই জিএসপি ফিরে পাব না। ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট সঠিক বলে রায় দিয়েছে। তবে কোনো চাপের মুখে সরকার মাথা নত করবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে প্রায় সকল শর্তই পূরণের পথে বাংলাদেশ। অধিকাংশ শর্ত পূরণ হলেও ৩টি শর্ত বাকি আছে। বাকি তিনটি শর্ত আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব হবে। এই তিন শর্ত পূরণ নিয়ে আমাদের জোর প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গার্মেন্টস শিল্প পরিদর্শনে ২০০ ইন্সপেক্টর বা কারখানা পরিদর্শক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৩০ মার্চের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হবে। জিএসপি ফিরে পেতে যুক্তরাষ্ট্র সহানুভূতিশীল হবে বলে আশা করেন তিনি।
রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন, ব্যবসার সঙ্গে রাজনীতি সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। ব্যবসাকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে  হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক সমঝোতাসহ সরকারের নীতিমালা সংশোধনের  অনুরোধ করেন তিনি।
এছাড়া সরকার চাইলে ব্যবসায়িক গবেষণা কার্যক্রমে আইবিএফবি’র পক্ষ থেকে  সহায়তা করার কথাও বলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অর্থনীতির ক্ষেত্রে রাজনীতিকে টেনে আনা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য রাজনীতির সঙ্গে অর্থনীতি এবং ব্যবসা যোগ করা হচ্ছে। কেবল বাংলাদেশেই নয়- আর্ন্তজাতিক অঙ্গণেও তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী।
এর আগে বাংলাদেশ মায়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
[b]ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এফএ[/b]