[b]সিডনি: [/b]যা আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তাই ঘটতে যাচ্ছে এবারের অ্যাশেজে। শঙ্কাকে বাস্তবে রুপ দিয়ে অ্যাশেজ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড যে তাদের কপালে সর্বনাশ ডেকে আনছে, তা বুঝা যাচ্ছে যখন মাত্র দ্বিতীয় দিনেই অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। আগের দিন ৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে খেলতে নামে ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১৪৭ রান যোগ করেই ইংল্যান্ড দুর্গের পতন ঘটে। ফলে, প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫।  
বেলা দ্বিপ্রহরের চা-টা ইংল্যান্ড ইনিংস শেষ করেই খেতে পেরেছে! এরপর অস্ট্রেলিয়া তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে। দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৪০ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ফলে স্বাগতিকরা এখন ৩১১ রানে এগিয়ে। তাদের হাতে আছে ৬ উইকেট এবং ইংল্যান্ডের 'সর্বনাশ ঘটানো'র মতো যথেষ্ট সময়।
প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ১৭১ রানে এগিয়ে ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ২৭ রান তুলে ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ব্যক্তিগত ১৬ রানে জিমি অ্যান্ডারসনের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পরেন। অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করতে গিয়ে মাশুল দেন। তিনি ৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ৯ রান করেন। দলীয় রান তখন ২ উইকেটে ৪৭।
অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক অন্যপ্রান্ত আঁকড়ে থাকা ওপেনার ক্রিস রজার্সের সঙ্গে যোগ দিয়ে ধীর স্থির ভাবে শুরু করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ রান করে তিনি স্টুয়ার্ট ব্রডের বলে উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর গ্লাভসবন্দী হন। প্রথম ইনিংসের ত্রাতা স্টিভেন স্মিথ এ ইনিংসে সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ৭ রান করে তিনি বেন স্টোকসের বলে অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের হাতে ধরা পরেন। দলীয় রান তখন ৪ উইকেটে ৯১।
টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জর্জ বেইলি ওপেনার রজার্সের সঙ্গে যোগ দিয়ে দলকে কিছুটা স্থিরতা দেন। এই জুটি পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে দিনশেষে ৪৯ রান যোগ করে। বাঁহাতি রজার্স চমৎকার ব্যাটিং করে মাত্র ৮৯ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৭৩ রান করে দিনশেষে অপরাজিত থাকেন। সিরিজে ক্রমাগত ব্যর্থ বেইলি অপরাজিত রয়েছেন ২০ রানে। ইংল্যান্ডের পক্ষে অ্যান্ডারসন ৩৬ রানে দুই উইকেট নেন।
এর আগে দিনের শুরুতে আগের দিনের ১ উইকেটে ৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে ইংল্যান্ড অসি পেসারদের আগ্রাসী বোলিংয়ের বিপক্ষে আরেকটি ব্যর্থতার নিদর্শন রেখে মাত্র ১৫৫ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করে। শুরু থেকেই বিপর্যয়ের পথ পাড়ি দেয়া ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের ৪৭ এবং স্টুয়ার্ট ব্রডের অপরাজিত ৩০ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত দেড় শতাধিক রান সংগ্রহে সক্ষম হয়।
স্বাগতিকদের পক্ষে ফাস্ট বোলার পিটার সিডল ২৩ রানে সিরিজের সেরা বোলার মিচেল জনসন ৩৩ রানে এবং স্ট্রাইক বোলার রায়ান হ্যারিস ৩৬ রানে তিনটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস- ৩২৬ (স্মিথ ১১৫,হাডিন ৭৫,ওয়াটসন ৪৩,হ্যারিস ২২,ওয়ার্নার ১৬,জনসন ১২,রজার্স ১১,ক্লার্ক ১০,স্টোকস ৬/৯৯,ব্রড ২/৬৫,বর্থউইক ১/৪৯,অ্যান্ডারসন ১/৬৭)।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস- ১৪০/৪ (রজার্স ব্যাটিং ৭৩,বেইলি ব্যাটিং ২০,ওয়ার্নার ১৬, ওয়াটসন ৯,স্মিথ ৭,ক্লার্ক ৬,অ্যান্ডারসন ২/৩৬,ব্রড ১/২৬,স্টোকস ১/৩৬)।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস- ১৫৫ (স্টোকস ৪৭,ব্রড অপরাজিত ৩০,ব্যালান্স ১৮,বেয়ারস্টো ১৮, র্যা নকিন ১৩,সিডল ৩/২৩,জনসন ৩/৩৩,হ্যারিস ৩/৩৬)।