ব্যাপক সহিংসতা, ভোট জালিয়াতির মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের ষষ্ঠ দফা। এ নির্বাচনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় বিএনপির চেয়ে পিছিয়ে ছিল আওয়ামী লীগ। এরপর থেকেই শীর্ষ স্থান ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে আওয়ামী লীগ। তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ দফা পর্যন্ত নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও ভোট কেন্দ্র দখলের উৎসবে মেতে উঠে আওয়ামী লীগ। এভাবেই আওয়ামী লীগ দখলে নেয় চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের শীর্ষ স্থান।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬ দফায় দেশের ৪৮৭ উপজেলার মধ্যে ৪৭১টির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ দফায় ২৩১ উপজেলায় বিজয় হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিতর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। আর গতকালের (সোমবারের) ১২ উপজেলার মধ্যে ৭টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিতর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। এ নিয়ে ছয় দফায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ২৩৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
অন্যদিকে প্রথম পাঁচ দফায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত ১৬১ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আর গতকাল  চেয়ারম্যান পদে ১২ উপজেলার মধ্যে বিএনপি সমর্থিতর ৪ জন এবং  তারাকান্দা (ময়মনসিংহ) চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে ৬ দফায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত ১৬৬ জন  বিজয়ী হয়েছেন।
এদিকে, প্রথম পাঁচ দফায় চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৫ জন বিজয়ী হয়েছেন। আর ৬ষ্ঠ দফায় চেয়ারম্যান পদে কেউ বিজয়ী হতে পারেননি।
অন্যদিকে, পাঁচ দফায় চেয়ারম্যান পদে দশম জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মাত্র ৩  জন বিজয়ী হয়েছেন। ৬ষ্ঠ দফায় চেয়ারম্যান পদে তাদের একাধিক প্রার্থী থাকলেও  কেউ বিজয়ী হয়নি। তাই সর্বসাকুল্যে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলকে ৪৭১ উপজেলায় মাত্র ৩জন চেয়ারম্যান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। 
এছাড়াও উপজেলা নির্বাচনের ৬ দফায় আওয়ামী লীগের ১৩ জন ও বিএনপির ৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বড় দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ে আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ৮, ইউপিডিএফ ৪, এলডিপির ১ এবং স্বতন্ত্র ১১ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন। এর বাইরে অন্য কোন রাজনৈতিক দল তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দুই দফা মোটামুটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়েছিল, কিন্তু যতই উপজেলা নির্বাচনের দফা বাড়তে (৩য় থেকে ৬ষ্ঠ দফা) থাকে ততই সহিংসতা ও ভোটকেন্দ্র দখলের ঘটনা বৃদ্ধি পায়।
সহিংসতা ও ভোটকেন্দ্র  দখলের সাথে সাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রাথীদের বিজয়ের মাত্রাও বাড়তে থাকে।  সবশেষ পঞ্চম ও ৬ষ্ঠ দফার নির্বাচনেও সহিংসতার পাশাপাশি ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার 'উৎসব' ছিল। এই দুই দফায় অধিকাংশ ভোট কেন্দ্র  স্থানীয় প্রশাসনের সহয়তায় দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ক্ষমতাসীনদের প্রার্থীদের বিজয়ী করা হয়েছে।
এসব কারণেই গত ৩১ মার্চ ৭৩ উপজেলার মধ্যে কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে ৫৪ প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ। সোমবারের ১২ উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ৭, বিএনপির ৫ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হওয়ায় জনগণ ভোট দিতে পেরেছেন। এ কারণে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের চেয়ে বিজয়ী বেশি হয়েছেন। সবশেষ তৃতীয় থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ৪ দফায় ভোট কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে। এ কারনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিতরা বেশি বিজয়ী  হয়েছে।
এ বিষয়ে  প্রধান নির্বাচন  কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে  চতুর্থ উপজেলা  নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হয়েছে।
উল্লেখ্য, চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম দফায় ৯৮ উপজেলার নির্বাচন হয়। এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৪০ জন ও বিদ্রোহী ৩ জন নির্বাচিত হন। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত ৩৬ জন ও বিদ্রোহী ১ জন নির্বাচিত হন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর ১২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, স্বতন্ত্র ২ জন, ইউপিডিএফের ২ জন ও জেএসএসের ১ জন নির্বাচিত হন।
দ্বিতীয় দফায় ১১২ উপজেলার মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ৫০ জন ও বিদ্রোহী ১ জন নির্বাচিত হন। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের ৪৪ জন ও বিদ্রোহী ২ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ৮ জন চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন।
বিগত ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করা হয় ৪৮১টির। এর মধ্যে ফল ঘোষিত হয় ৪৭৫টির। এ ৪৭৫ উপজেলার মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৭, বিএনপি ৮২, জামায়াত ২৬ এবং অন্যরা পেয়েছিল ৭০টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিজয়ে হয়েছেন।
[b]ঢাকা, এএম, ২০ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি[/b]