[b]ঢাকা:[/b] বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনা পরের বিষয়।
জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আঁতাতের বিষয়টি শুধুই কৌশলগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি, উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন চায় বলেই তরুণরা এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া
এ সাক্ষাৎকারে বিএনপির দলীয় অবস্থান ও আঠারো দলের পরবর্তী ভাবনা তুলে ধরেছেন খালেদা জিয়া।
নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম কথা আমি বলব যে, দেশে কোন নির্বাচন হয়নি। যেটা হয়েছে তা কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ সরকারকে সম্পূর্ণভাবে রিজেক্ট করেছে। ১৫৩টা সিটে কেউ পার্টিসিপেট করেনি। কন্টেস্ট করেনি। কেউ আগ্রহীই নয় নির্বাচন করতে। সেখানে শুধু একদলীয় নির্বাচন ১৫৩টা সিটে হয়েছে। কোন প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।
দ্বিতীয়ত যে ১৪৭টা সিটে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনের কথা ছিল। সেখানেও দেশের ও বিদেশের মিডিয়া কর্মীরা দেখেছে, ভোটিং সেন্টারে মানুষই নেই। প্রিজাইডিং অফিসার কোনো কোনো যায়গায় ঘুমাচ্ছে। কোনো কোনো যায়গায় নিজেরাই ভোট দিচ্ছেন। ৪৭/৪৮টা ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটার ভোট দেয়নি। তারপরে অনেক কেন্দ্র বন্ধ। তারপরও যেটা হল তাতে ৫% ও হবে না।
বিএনপির নেত্রী বলেন,জনগণের মতামতের কোনও প্রতিফলন এখানে হয়নি। কাজেই এটাকে কোনও ইলেকশন আমি বলব না। এটা ভাগাভাগির নির্বাচন বলতে পারেন। তারা নিজেরা সিট ভাগাভাগি এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন,বাংলাদেশের জনগণ সত্যিকারের একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। যেখানে সকল দলের অংশগ্রহণ থাকবে। সেরকম একটি নির্বাচন দেখতে চায়। সেই নির্বাচনটা হতে হবে একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।
মানুষ এখন আরও পরিষ্কার ৫ই জানুয়ারির পরে যে আওয়ামী লীগের অধীনে কোনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এবং নির্বাচন কমিশন যে একটা মেরুদণ্ডহীন বা দলীয় সরকারের মতো কাজ করেছে, এটা একদম পরিস্কার। যেখানে ৫%ও ভোট পড়েনি। সেখানে কেমন করে ৪০%ভোট বলে? এটা একটা নির্লজ্জ মিথ্যা কথা বলছে। এবং এজন্য তার দু’দিন সময় লেগেছে। সব ঠিকঠাক করে, গুছিয়ে কিভাবে বলবে তা ঠিক ঠাক করে। কাজেই এটা পরিস্কার। এবং জাতী এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনার আহ্বান প্রশ্নে তিনি বলেন, দশম নির্বাচনই তো মানুষ রিজেক্ট করেছে। একাদশের কথা পরে হবে। আমরা গণিতান্ত্রিক দল। আমি অনেক আগে থেকেই গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি। আমরা সত্যিকারই গণতন্ত্র চাই। জনগণের ভোটের অধিকার,ভাতের অধিকার, মানবাধিকার রক্ষার জন্য চাই। শন্তি চাই, উন্নয়ন চাই, দারিদ্র বিমোচন চাই, লেখাপাড়া চাই। তরুণরা এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ, জোট বা ঐক্য বা আঁতাত কৌশলগত কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে আতাত বলেন, জোট বলেন বা ঐক্য বলেন তা আওয়ামী লীগই আগে করেছে। এরশাদের আমলে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম কেউ নির্বচানে যাব না। তারপর মাঝ রাতে এরশাদের সঙ্গে আতাত করে নির্বাচনে গেল আওয়ামী লীগ। জামায়াতের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে নিয়ে গেল।
নিরপেক্ষ সরকারের দাবিটা আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের। সে জন্য তখন আওয়ামী লীগ অনেক নাশকতা করেছে। আওয়ামী লীগ এখনও জামায়াতের সঙ্গে সেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এই জোট সপূর্ণভাবে কৌশলগত।
বিদেশীদের হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, আমরা স্বাধীন দেশ। এদেশের মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে। বিদেশীরা আমাদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসাবে সাহায্য সহযোগিতা করেন। তারা বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা বলতে পারেন। কিন্তু তারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উপর হস্তক্ষেপ করলে মানুষ তা সহ্য করবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে অচলাবস্থা, হত্যা, নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সবকিছুর দায় বর্তায় গভর্নমেন্টের উপর। তাদের একগুয়েমি, জেদের উপর। এজন্য সরকার দায়ী। দলীয় লোকজনই এসব ঘটনা ঘটিয়েছে। সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর তারা পোড়াচ্ছে। অতীতেও তারা হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান দখল করেছে।
তিনি বলেন,সংখ্যালঘুদের সবসময় তারা খারাপ আরচণ করছে। পুলিশের চোখের সামনে এগুলো ঘটলেও তারা কিছু বলছে না। কারন তাদেরকে নির্দেশনা দেয়া আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, মানবাধিকার, স্বাধীন দেশের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে কারও হস্তক্ষেপ নয় এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এগুলো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপি চেয়াপারসন অভিযোগ করেন, দেশের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত খারাপ। অত্যন্ত ভয়াবহ। সারাজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য হত্যা, গুম করছে আওয়ামী লীগ। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধেই নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আজ জেলখানাগুলো বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দিয়ে ভরে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শ্রেণীহীন
‘জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত কৌশলগত’
বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং একাদশ সংসদ নিয়ে আলোচনা পরের বিষয়। জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আঁতাতের বিষয়টি শুধুই কৌশলগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি, উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন চায় বলেই তরুণরা এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভয়েস অব আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া





