বাংলাদেশে এখন যে রাজনীতি চলছে তা হলো উতখাতের রাজনীতি। বিরোধী শক্তিকে দমন করে সর্বত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করাই এখন রাষ্ট্র পরিচালনাকারী রাজনৈতিক শক্তির মূল উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রশক্তির এই বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীর অপহরণের ঘটনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বিচার বহির্ভূত খুন-গুম অপহরণ, হয়রানি বন্ধ করো, আবুবকর সিদ্দিককে উদ্ধার করো এই শ্লোগোনকে সামনে রেখে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল বলেন,বিভিন্ন সময়ে অপহরণ,ক্রসফায়ার, গুমসহ বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে দেশে স্বাভাবিক মৃত্যু যেন কাপুরুষের মৃত্যু।
সাগর রুনি হত্যা,ত্বকিকে অপহরণের পর হত্যা,রাজনীতিক ইলিয়াস আলী গুম হলেও সরকার এর কোনোটির বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং সরকারের পৃষ্টপোষকতা দিয়ে দোষীদের, অপরাধীদের ক্ষমতায় এনেছে। আবু বকরের মতো অরাজনৈতিক একজন পোশাক শিল্পের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিবালোকে অপহরণ করা হলেও সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলছে দেশে কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। তার এ বক্তব্যে আমাদের সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারি না।
তিনি বলেন,৭১ এর চেতনায় আজও বলতে হয় এ সমাজ ভাঙতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মোহাম্মদ বলেন, আজ দেশে সকল শ্রেণীর মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কেউ বলতে পারছে না কখন কে অপরহরণের শিকার হবে। দেশে একের পর এক বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটে গেলেও সরকার নিরব। দেশী-বিদেশী গোয়েন্দার এজেন্টরা এসে মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার বলছে এমন কিছু ঘটেনি।
আবু বকর সিদ্দীকের মতো লোককে দিবালোকে অপহরণ করা হলেও সরকার এখনো কোনো ক্লু দিতে পারেনি। উল্টো বলছে দেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটছে না। অপহরণ হচ্ছে না। অথচ বিভিন্ন ঘটনায় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেক ঘটনায় সরকার ও সরকারি দলের মদদে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড,অপহরণ ও গুমের ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, আবু বকর সুস্থ শরীরে পরিবারে যেন ফিরতে পারেন সে ব্যবস্থা সরকারকেই করতে হবে। নইলে সরকারকেই এবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
গণসংহতি আন্দোলনের নেতা জোনায়েত সাকি বলেন, এই সরকার বিভিন্ন সময় বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিচার না করে বুঝিয়ে দিয়েছে দেশে তারা বহির্ভূত  হত্যাকান্ডকে একরকম বৈধতা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার মনে করছে তাদের পেশি শক্তির নিচে সকল প্রতিবাদী কন্ঠ নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। সরকারের এ ধারণা ভুল। এখনই সময় সরকারের এ ধরণের বিষ দাঁত ভেঙ্গে ফেলার। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচারি সকল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হলেও আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এসময় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য রাখেন,সমাজ বিজ্ঞানী স্বপন আদনান, নিউএইজের সম্পাদক নুরুল কবির, লেখক রাখাল রাহা, আবু বকর রুপম প্রমুখ।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]