[b]বার্লিন:[/b] কফির দোকানে দুটো কফির দাম দেন কিন্তু পান করেন একটি,আর অন্য কফিটি তুলে রেখে দেওয়া হয় এমন কারো জন্য যার কফির দাম দেওয়ার সামর্থ্য নেই। জার্মানিতে এ ধরনের প্রায় ৫০টি কফির দোকান রয়েছে।
পাতলা কালো চুল আর রুগ্ন চেহারার জন নামের মানুষটি প্রতিদিন সন্ধ্যায় যায় দিজিয়ানা ইলিচের কফি শপে। সেখানে যারা যান তাদের সবাইকেই তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন। যেমন ‘গৃহহীনদের সংবাদপত্র'যে মহিলার হাতে থাকে,তিনি দু-তিনদিন পরপর আসেন। আর তারা সবাই যে কফি পান করেন সেটাও নয়। যেমন জন পছন্দ করে গরম চকলেট আর মহিলাটি ভালোবাসেন ফলের নির্যাস দেয়া চায়ের সাথে খানিকটা মধু।
এই দোকানগুলোতে যিনি কফির অর্ডার দেন,তাকে এককাপ কফি আর একটি রসিদ দেওয়া হয়। যার কফি কেনার সামর্থ্য নেই তার জন্য রসিদটি দোকানেই রেখে যান ঐ ক্রেতা।
‘‘শীত যত বেশি হয় মানুষের আনাগোনা ততটাই বাড়ে এবং তারা গরম পানীয় পান করেন৷ শীতকালে প্রায় প্রতিদিনই গড়ে অন্তত তিনজন করে মানুষ এমন কফি খেতে আসেন", বলেন ইলিচ।
হামবুর্গ শহরের ‘লোহাসকফি'নামের এই কফির দোকানটির ভেতরে কমলা রং-এর আলো, বেশ খোলামেলা আর দোকানটা সাজানো হয়েছে সুন্দর বেতের চেয়ার দিয়ে। ইলিচ এই কফি শপেরই পরিচালিকা। তিনি বলেন,‘‘এখানে এক কাপ কফির দাম ৩.৬০ ইউরো। তবে তা জনের মতো গৃহহীন মানুষদের জন্য নয়,জনের জন্য কফি ‘ফ্রি'।" এই কফিকে নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাসপেন্ড কফি'বা বলা যেতে পারে অন্যদের জন্য আলাদা করে তুলে রাখা কফি। বলা বাহুল্য, এই ধরনের কফি শপগুলো জার্মানিতে দিনদিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
কফির ইতিহাস জানতে হলে প্রায় ৪০০ বছর পেছন ফিরে তাকাতে হবে। কফি মূলত এসেছে ইথিওপিয়া থেকে। ২০১২ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে জার্মানরা গড়ে জন প্রতি ১৪৯ লিটার কফি পান করেন। গত বছর মোট ৪০২,০০০ টন দানা কফি এবং ১২.৮০০ টন ইন্সট্যান্ট কফি পান করা হয়েছে। পানি বা বিয়ারের চেয়ে কফি বেশি পান করা হয়েছে।
ইলিচ ইন্টারনেটেই প্রথম এই ধরনের কফি শপের কথা পড়েছিলেন। সেখান থেকেই তার এই ভাবনা এসেছে। ইন্টারনেটে অনেককিছুই লেখা থাকে,অনেক আইডিয়াই থাকে। কিন্তু কোন আইডিয়া আসলে কার,তার আসল মালিককে পাওয়া খুব সহজ নয়। তবে কফি কেনার মধ্য দিয়ে সাহায্য করার ব্যাপারটি অভিনব৷ ইলিচ খানিকটা স্মৃতিচারণ করে বলেন স্যাকসনি রাজ্যের ১৭ বছর বয়সি সাসকিয়া ব়্যুডিগারের কথা,যিনি নিজে কফি খায় না। তবে সাসকিয়ার ভাষায়,‘‘আমি ফেসবুক মারফত জেনেছি যে এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেন এ মুহূর্তে চলছে,যা এরই মধ্যে অনেক দেশেই জনপ্রিয় হয়েছে,শুধু জার্মানি ছাড়া।"
তারপরই সাসকিয়া গত বছরের ৮ এপ্রিল সরাসরি ইন্টারনেটে দেওয়া ফোন নম্বরে ফোন করেন এবং ফেসবুকে এ সম্পর্কে জানান। তার পরের দিন থেকেই সবকিছু পাল্টে যেতে শুরু করে। সাসকিয়া বলেন,‘‘এরপর থেকে অনেকেই ফেসবুকে আমার লেখায় লাইক করতে শুরু কর। পরে মারবুর্গ এবং বিলেফেল্ড শহর থেকে কেউ কেউ যোগাযোগও করেন। শুধু তাই নয়, বিলেফেল্ডের একটি পত্রিকায় এ সম্পর্কে একটি রিপোর্টও বের হয়। তারপর একজন ভদ্রলোক যাঁর টেকনিক্যাল বিষয়ে জ্ঞান আছে,তিনি এগিয়ে আসেন এবং সাহায্য করেন আমাকে।"
এভাবেই ঐ কফি দোকানের শুরু। সাসকিয়া আরো বলেন,এখানে শুধু কফি খাওয়া বা খাওয়ানো নয়,এটা একটা মহৎ উদ্যোগ৷ আসলে এর মধ্য দিয়ে এটা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে যে,‘‘যাঁদের সাহায্য প্রয়োজন তাঁদের পাশে আমরা আছি।"
ইলিচ মনে করেন,এই উদ্যোগটি সফল হবার কারণ সাহায্যকারীরা পর্দার আড়ালে থাকেন বলে। সরাসরি কাউকে সাহায্য দেয়া বা কারো পক্ষে সাহায্য নেয়া সেভাবে সব সময় সম্ভব হয় না।
তবে এই ‘আইডিয়া'সম্পর্কে সমালোচকরা ভিন্নমত পোষণ করেন। তাদের মতে,এ ধারণাটি একেবারে নতুন নয়। বহু বছর আগে নাকি ইটালির নেপলস শহরে এই একই ধরনের কফি শপের প্রচলন ছিল। সূত্র: ডয়চে ভেলে
টাইম নিউজ/এসএমএ
শ্রেণীহীন
জার্মানিতে বিনামূল্যে কফি
বার্লিন: কফির দোকানে দুটো কফির দাম দেন কিন্তু পান করেন একটি,আর অন্য কফিটি তুলে রেখে দেওয়া হয় এমন কারো জন্য যার কফির দাম দেওয়ার সামর্থ্য নেই। জার্মানিতে এ ধরনের প্রায় ৫০টি কফির দোকান রয়েছে।





