‘আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালবাসি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণার দিন আজ। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত বিশাল ছাত্র-গণসমাবেশে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময়ও এ গানটি জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গাওয়া হয়। এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে মুক্তিবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় প্রতিদিন গাওয়া হতো গানটি।
১৯০৫ সালে ব্রিটিশের বাংলাকে ভাগ করার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৪৪ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লেখেন এ গানটি। সুরও দিয়েছেন তিনি। একই বছর ৭ সেপ্টেম্বর কবির স্বাক্ষরে গানটি সঞ্জীবনী পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।
২৫টি চরণের এই গান কুষ্টিয়ার শিলাইদহের ডাকপিয়ন গগণ হরকরা রচিত ‘আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটির সুরের অনুষঙ্গে রচিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রকার শহীদ জহির রায়হান ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তার বিখ্যাত ‘জীবন থেকে নেওয়া’ কাহিনীচিত্রে এই গানের ব্যবহার করেন।
স্রোতাদের পছন্দানুসারে বিবিসি বাংলার তৈরি সেরা ২০টি বাংলা গানের তালিকায়ও এই গানটি ১ম স্থান দখল করে। ১৯৭২ সালে এর প্রথম ১০টি চরণকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
[b]ঢাকা, ৩ মার্চ ( টাইমনিউজবিডি.কম ) // কেএইচ[/b]