[b]চট্টগ্রাম: [/b]সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাড়িসহ অর্ধশত বাড়িতে বুধবার মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ভাঙচুর করা হয় অর্ধশতাধিক বাড়ি।
সাজানো গোছানো বাড়িঘর,আসবাবপত্র,গাড়ি,টিভি,কম্পিউটার,ফ্রিজ কোনোটিই অক্ষত নেই। লণ্ডভণ্ড ঘরের সব আসবাবপত্র। দেখলে মনে হবে কোনো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার চিত্র।
যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতকানিয়া উপজেলার চরতি ইউনিয়নের দুরদুরি ও তালগাঁও এলাকায় এ ধ্বংসযঞ্জ দেখা যায়। এতে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত ৩০টি ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন,তাণ্ডব চালিয়ে শেষ নয়, লুটপাট করেছে টাকা-পয়সা,স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রও। তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি শিশু থেকে বৃদ্ধ মহিলাও।
গ্রাম দু’টিতে ২ ঘণ্টা অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘুমন্ত মানুষ ভয়ে দিগ্ববিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। পুরো চরতি ইউনিয়নে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
চরতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ডা: রেজাউল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি জানান,যৌথবাহিনীর শতাধিক সদস্য এবং মুখোশ পরা আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সদস্যরা চরতি ইউনিয়নের দুরদুরি ও তালগাঁও এলাকায় গভীর রাতে তাণ্ডব চালায়। এ সময় গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই ঘুমিয়েছিলেন। মুখোশ পরা সন্ত্রাসীদের কাছে লাঠি,হকি স্টিক, রাম দা দেখা যায়। তারা ৩০টি ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে প্রবেশ করে আসবাবপত্র গুঁড়িয়ে দেয়। ঘরের লোকজনের ওপর আক্রমণ করে। যাওয়ার সময় ব্যাপক লুটপাট চালায়।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়,যৌথবাহিনীর সদস্যরা চরতি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় আমির ডা: রেজাউল করিমের বাড়িতে প্রথমে অভিযান চালায়। এ সময় শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মুখোশধারী সরকারি দলের ক্যাডার পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। তার ঘরের দরজা-জানালা,সোফা ও অন্যান্য আসবাবপত্র তচনছ করে। এ সময় রেজাউলকে খুঁজে না পেয়ে তারা ঘরের লোকজনকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ শোয়েবের বাড়িতে অভিযান চালায়। তার ঘরে গিয়ে দেখা যায়,ড্রয়িংরুমের সোফাগুলো ভেঙে চুরমার করে ফেলা হয়েছে। ডাইনিং টেবিল ভেঙে ফেলা হয়েছে। ভাঙা খাট,বিছানাপত্র,কম্পিউটার,টেলিভিশন সব কিছুই পড়ে আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। ব্যবসায়ী শোয়েবের ব্যবহ্নত মোটরসাইকেল ভেঙে ফেলা হয়েছে। শোয়েব জানান, যৌথবাহিনীর সদস্যদের সাথে থাকা আওয়ামী লীগ-যুবলীগের সদস্যরা এ তাণ্ডব চালায়।
একই রকম তাণ্ডবের দৃশ্য দেখা গেছে চেয়ারম্যান বাড়ির ব্যবসায়ী আকতার হোসেন,নুরুল ইসলাম,প্রবাসী সাব্বির আহমদ,জামায়াতকর্মী মুহাম্মদ ইদ্রিস,মোহাম্মদ হাশেম,আমানুল হক, ওবাইদুল হকের ঘরে।
প্রবাসী আহমদ হোসেনের বাসায় গিয়ে দেখা যায়,তার স্কুলপড়ুয়া ছেলে সরওয়ার কামাল ঘরের লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে থাকা আসবাবপত্র পাহারা দিচ্ছে। সরওয়ার জানায়,তার বাবা গত এক মাস হলো সৌদি আবর থেকে দেশে বেড়াতে এসেছেন। তাকে বিনা কারণে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। সে অভিযোগ করেছে,এ সময় তার গায়ের ওপর হাত তুলেছে পুলিশের সাথে আসা মুখোশধারীরা। সে জানায়,তার বাবা কোনো রাজনীতির সাথেই জড়িত নয়। এ ছাড়া তার বাবার বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগও নেই।
তালগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী আবু তাহের,মোহাম্মদ হাশেম,আহামুদুল হক,ব্যবসায়ী জামাল আহমদ,ফরুখ আহমেদ,নোমান,পশ্চিম দুরদুরির মনির উল্লাহ,আমিন উল্লাহ,ছালে আহমদ বাদশা,ছাবের আহমদ,আলী আহমদ,নেজাম উদ্দিন,মাওলানা ফরুখ,জামাল আহমদ, বিএনপি নেতা মুহাম্মদ হারেস চৌধুরী,আব্দুল কুদ্দুস,মনছুর আহমদ,তালগাঁও এলাকার জামায়াত কর্মী জেবল হোসেন,পশ্চিম দুরদুরির মাহমুদুল হক,প্রবাসী আজমল হক,হাজী আমীর হোসেন,নূর মোহাম্মদ,হাবিবুর রহমান সিকদার ও মাওলানা নুরুল হকের ঘরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় মুখোশধারীরা বাড়িগুলোয় তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান,প্রায় ২৪টি গাড়ি করে র্যা ব, পুলিশ,বিজিবি সদস্যদের সাথে লুঙ্গি পরা এবং মুখোশ পরে শতাধিক লোকজন রাত পৌন ২টার দিকে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মুখোশধারীদের হাতে রাম দা,হকি স্টিক,লাঠি এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখেছে বলে প্রত্যদর্শীরা জানান।
চরতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রমজান আলী বলেন,যৌথবাহিনীর সাথে আসা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সদস্যরাই এসব তাণ্ডব চালিয়েছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ খালেদ হোসাইন বলেন, অপরাধীদের গ্রেফতার করতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সদস্যরা অভিযানে যুক্ত ছিল বলে আনীত অভিযোগ ঠিক নয়। (সূত্র: নয়াদিগন্ত)





