নতুন করে সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ৪৯ থানা এলাকা থেকে এ তালিকা স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হবে।
স্থানীয় থানা এলাকার দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা খসড়া তালিকার পর সমন্বয় করে তা যাচাই-বাছাই করবেন।
রাজধানীতে নতুন সন্ত্রাসী বেড়েছে। এমনকি তাদের ধরনও আগের চেয়ে পাল্টে গেছে। এক এলাকার সন্ত্রাসী অন্য এলাকায় গিয়ে মাস্তানি ও আধিপত্য বিস্তার করে অপরাধ করছে।
পুলিশের ওপর দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নাশকতাকারীদের মোকাবেলার ভার থাকায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে সেভাবে কোনো অভিযানও চালানো হয়নি। এ অবস্থা কিছুটা উত্তরণের পর গোয়েন্দা সদস্যরা নড়েচড়ে বসেছেন।
সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা নতুন প্রজম্মের পাঁচ শতাধিক সন্ত্রাসীর একটি তালিকা করলেও সেটিও পূর্ণাঙ্গভাবে করা হয়নি। তাই নতুন করে আবার উদ্যোগ নিয়ে থানাওয়ারি তালিকা করে শিগগিরই অভিযানে যাবে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপির) মুখপাত্র যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জানমাল রক্ষায় পুলিশের নিয়মিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। তবে নতুন করে সন্ত্রাসী তালিকা করে একটি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা চলছে।
ডিএমপির মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, রাজধানী থেকে কিছুসংখ্যক সন্ত্রাসী যাদের নাম নতুন করে তালিকায় আসবে তাদের কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি দিয়েছে। এদের শিষ্যদের গতিবিধি লক্ষ্য করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, যারা বিদেশে গেছেন তারা শিষ্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এখন প্রযুক্তির সময়। সন্ত্রাসীরাও আগের চেয়ে অনেক চতুর, তারাও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। এই কর্মকর্তা বলেন, গডফাদার ছাড়াও রাজধানীতে শ্রেণীভেদে তিন ধরনের সন্ত্রাসী রয়েছে।
ছোট-বড়-মাঝারি এই তিন স্তরে শ্রেণী বিন্যাস হওয়া সন্ত্রাসীদের নতুন তালিকায় নাম আসছে। জানা গেছে, এ তালিকায় যাদের নাম আসছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, ডাকাতি, সশস্ত্র ছিনতাইসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। কেউ আবার হত্যা মামলার নির্দেশদাতা, কারো বিরুদ্ধে আতিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি সৃষ্টি, টেন্ডারবাজি নিয়ে গুলি এবং খুন, বিভিন্ন সড়কে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই, ডাকাতি, মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি এবং নিয়মিত লোক পাঠিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে।

[b]ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ/এফএ[/b]