[b]লন্ডন:[/b] ৬ জানুয়ারি ঢাকায় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার জন্য এমনভাবে বিদ্রুপ করলেন এবং নিজের জয়ে এমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন যে, এটা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে তিনি অভিনয় করছেন নাকি বাস্তবতাকে মানতে নারাজ।
আজ শুক্রবার লন্ডনের পত্রিকা দ্য ইকোনমিস্ট বাংলাদেশের দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে এমন মন্তব্য করেছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, দেশের গণতন্ত্র এক কথায় পচে গেছে। বেশিরভাগ আসনেই নির্বাচিত হওয়া সংসদ সদস্যদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। খুব অল্প সংখ্যক ভোটারই এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার ভোটদান করেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হলেও গণমাধ্যম এবং অন্যান্য সূত্র মনে করছে এ নির্বাচনে ভোট দানকারীর সংখ্যা খুবই নগন্য। এ বাজে পরিস্থিতি শেখ হাসিনাকে আবারো দেশ শাসন করার অধিকার দেয় না।
প্রত্রিকাটিতে আরো বলা হয়, অনেক কেন্দ্রে কোন ভোটার না থাকলেও সন্দেহজনকভাবে দিনশেষে প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়ার খবর বেরিয়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে মাত্র নয়টি আসনে ভোট হয়।
প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকার অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছে। কারণ বিগত ৪টি জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকলে নির্বাচন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে বিরোধীদের অভিযোগ। অথচ হাসিনা সরকার ২০১১ সালে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে।
এদিকে নির্বাচনের কয়েকদিন আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের দলও নির্বাচন বর্জনকারীদের দলভুক্ত হয়। চতুর্থ বৃহত্তম দল জামায়াতে ইসলামী আগে থেকেই নির্বাচন বর্জন করে আসছিল। এসব কারণে সরাকারি দল বিরোধী দলের অনেক শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল অসংখ্য নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠায় হয় এবং নির্যাতন করে।
এদিকে নির্বাচনের দিনও পুলিশের গুলিতে ২০ জন মারা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়, সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাংচুর কারা হয়।
তবে আরেকটি ভয়ঙ্কর বছর শুরু হলো বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনটিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ৫শ মানুষ প্রাণ হারায়। স্বাধীনতার পর এ বছরটিকেই সবচেয়ে সহিংস বছর হিসেবে গণ্য করা যায়। সরকার সহিংসতার জন্য বরাবরই বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করছে।
তবে সহিংসতার জন্য সরকারি দলকে অনেকাংশে দায়ী করেছে ইকোনমিস্ট। বিতর্কিত দুর্বল ভিত্তির উপর দাঁড়ানো যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হয়। এমনকি কয়েকজন বিরোধী নেতাকে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়। এসব বিষয় দেশব্যাপী বিক্ষোভকে আরো উস্কে দেয় বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনটিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশিরা আরেকটি নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনে কোন পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। নির্বাচনের পরদিন এসব দেশ বিতর্কিত নির্বাচন এবং সহিংসতার জন্য দু:খ প্রকাশ করে। এসব দেশ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোন অভিনন্দনও জানায়নি। বরং তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা না দেয়ার হুমকিও দিতে পারে।
তবে শেখ হাসিনা সম্ভবত সরকারে থেকে যাওয়ার কথাই ভাবছেন। খালেদা জিয়াকে যদি নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় আসার আহবান জানান সে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেও কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। এমনকি হয়তোবা কখনোই দু'জোট একমত হবে না। ইতোমধ্যে সরকার জামায়াতকে জোট থেকে বাদ দেয়ার জন্য বিএনপিকে চাপ দিচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০০৭ এর মতো আর দুই নেত্রীকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করবে না। আসছে সময় গুলোতে শেখ হাসিনা সামরিক এবং আধা সামরিক এবং আন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য যেসব সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন সেক্ষেত্রে তারা ক্ষমতা হাতে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে না বলে মন্তব্য করে ইকোনমিস্ট।
[justify][size=4][font=SolaimanLipi] [/font][/size][/justify]





