দুর্নীতি দমক কমিশনের(দুদক) কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলের আরও পাঁচ সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তথ্য প্রমান পেয়েছে দুদক। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদক মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফ্রিংকালে দুদক কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন চুপ্পু এ কথা বলেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ক্ষমতায় থাকাকালে যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে সুর্নিদিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারা বিদেশের প্রাইভেট ব্যাংকে অর্থ লুকিয়ে রেখে দেশের দারিদ্র বিমোচন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাধার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলায় ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়ার কথাও জানান চুপ্পু। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মামলা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। আসামিকে আদালতে হাজির করে এ জন্য তদন্ত কর্মকর্তা ৭ থেকে ১০ দিনের রিমান্ড চাইবেন। উল্লেখ্য, এরইমধ্যে মোশাররফের বিরুদ্ধে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
চুপ্পু বলেন, দুদক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে ছাড় দিচ্ছে না বা কারও প্রতি কঠোর হচ্ছে না। দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, এটি সব সময় নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ক্ষমতায় থাকাকালে যারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে সুর্নিদিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারা বিদেশের প্রাইভেট ব্যাংকে অর্থ লুকিয়ে রেখে দেশের দারিদ্র বিমোচন ও উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে বাধার সৃষ্টি করেছে।
কমিশনার চুপ্পু বলেন, মোশাররফের বিরুদ্ধে প্রায় ১১ কোটি টাকা যুক্তরাজ্যের আইল্যান্ড দ্বীপের একটি প্রাইভেট ব্যাংকে গচ্ছিত রাখার সুর্নিদিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি মারি লন্ডাংরিং আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি ওই মামলার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। এই জামিনের বিরুদ্ধে দুদক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জামিন বাতিল করে দেয়। ওই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই তাকে গতকাল রাতে গ্রেফতার করা হয় বলে তিনি জানান।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত টাকা দেশে ফেরত আনা যাবেনা। তবে বিদেশের ঐ ব্যাংক টাকা ফ্রিজ করে রেখেছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘন্টা খন্দকার মোশারফকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সিএমএম আদালতে নেয়া হয়।
গতকাল বুধবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটে গুলশান-২ এর ৫৫ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে খন্দকার মোশারফকে আটক করে গুলশান থানা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা নং-১৩ দায়ের করে দুদক। দুদকের পরিচালক নাসিম আনোয়ার বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা গোপন করে যুক্তরাজ্যের নয় কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১ টাকা (আট লাখ চার হাজার ১৪২ দশমিক ১৩ বৃটিশ পাউন্ড) পাচার করেছেন সাবেক মন্ত্রী। তার ও তার স্ত্রী মিসেস বিলকিস আক্তারের যৌথ ব্যাংক হিসাবে (হিসাব নম্বর ১০৮৪৯২) এ অর্থ পাচার করা হয়েছে। অর্থ পাচারের সঙ্গে তার স্ত্রী মিসেস বিলকিস আক্তার বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা মামলার তদন্ত পর্যায়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১৩ এর ১৩ ধারা, ২০০৯ এর ৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এর আগে দুদক কার্যালয়ে এই মামলার অনুমোদন দেয়া হয়।
[b]ঢাকা, একে, ১৩ মার্চ, (টাইমনউজবিডি.কম) // কেবি[/b]
শ্রেণীহীন
আরও ৫ সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তথ্য মিলেছে-চুপ্পু
দুর্নীতি দমক কমিশনের(দুদক) কমিশনার মো: শাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলের আরও পাঁচ সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তথ্য প্রমান পেয়েছে দুদক। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।





