জাতীয় নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিলেও উপজেলা নির্বাচনে সে সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি অংশ নেয়ায় এ নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহীদের নিয়ে বেকায়দায় পড়ে ক্ষমতাসীনরা। এ ধাক্কা সামলাতে কৌশল হিসেবে কোথাও বিদ্রোহীদের করা হয়েছে বহিষ্কার, আবার কোথাও কোথাও এই প্রশ্নে নীরব ভূমিকা পালন করছে দলটি।
উপজেলা নির্বাচনে দল থেকে একক প্রার্থী নিশ্চিত করাটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তাই শুরু থেকেই একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে তৃণমূলে নির্দেশ পাঠানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে দলও গঠন করা হয়েছিল। নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। সে চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করা, এমনকি দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়। কিন্তু কোনো চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি।
উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, সংসদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও বিজয় নিশ্চিত করতে। তাই জয় এনে দিতে পারবে এমন প্রার্থীদেরই সমর্থন দেয়া হচ্ছে। কিছু উপজেলায় একাধিক প্রার্থীকে ছাড় দেয়া হয়েছে। কোথাও বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে, আবার কোথাও বহিষ্কার করা হচ্ছে না। এটা মূলত আমাদের দলীয় কৌশল।”
প্রথম পর্বে বুধবার অনুষ্ঠেয় ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনে ৫০টির বেশি উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পেরেছে দলটি। বাকি ৪০টির মতো উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
শেষ সময়ে এসেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করেছে দলটি। ১৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটের ৩টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া ৪জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া ৪জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম কামাল, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আকবর আলী ফখর, জকিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউনুছ আলী এবং জৈন্তাপুরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল আহমদ।
এ ছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, বালাগঞ্জ উপজেলায় ওসমানী নগর থানা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক ও থানা কৃষক লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মস্তান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শামসুল ইসলাম এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ জাহান চৌধুরীও রয়েছেন বহিষ্কৃতদের তালিকায়।
এর আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গাবুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিউল আযম লেনিনকে জেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত হয়েছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম ভোলা, ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আরা।
মাদারীপুরের কালকিনিতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহীনকে বহিষ্কার করা হয়। আরো বহিষ্কৃত হন চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, “আমরা প্রতিটি উপজেলাতেই চেষ্টা করছি একক প্রার্থী দিতে। যেসব উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন, সেখানে একক প্রার্থী নির্ধারণে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।”
ঢাকা,এএম,১৯ফেব্রুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ
শ্রেণীহীন
বিদ্রোহী প্রার্থীদের কোথাও লালন, কোথাও বহিষ্কার
জাতীয় নির্বাচনে ফাঁকা মাঠে গোল দিলেও উপজেলা নির্বাচনে সে সুযোগ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বিএনপি অংশ নেয়ায় এ নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহীদের নিয়ে বেকায়দায় পড়ে ক্ষমতাসীনরা





