নিদ্রাহীনতা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি করে। এসব ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউরের মতো ঘটনাও সচরাচর ঘটে থাকে। মৃত্যুঝুঁকিও অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে। ১ হাজার ৭৪১ পুরুষ ও নারীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়; বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও
গত বছরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তারা নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। তাদের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকটভাবে বিদ্যমান। গবেষণায় দেখা গেছে, এক সপ্তাহে যারা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের প্রায় ৭শ' জিনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
যান্ত্রিক যুগে মানুষের নিদ্রাহীনতা স্বভাবতই বাড়ে। নিদ্রাহীনতার কারণে ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়ে। রাত জেগে যারা ড্রাইভিং করেন, তাদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাদের চোখের দৃষ্টি অনেক ক্ষেত্রে ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে যায়।
যারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুমান না, তাদের চেহারা মলিন হয়ে থাকে। তাদের চেহারায় না ঘুমানোর ক্লান্তি পরিষ্কার ফুটে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে চেহারায় বয়স্ক একটা ভাব চলে আসে। ঘুমের অভাবে জীর্ণ দেখায় মুখাবয়ব। যারা দিনে ৭ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান, তাদের ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।
১৫ ব্যক্তির ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এক রাত না ঘুমান, তাদের মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বেশি আবেগতাড়িত থাকেন। নিদ্রাহীনতায় মানুষের মস্তিষ্কের আবেগতাড়িত অংশ ৬০ শতাংশ সচল থাকে, যার ফলে আবেগতাড়িত হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
নিদ্রাহীনতা অনেক সময় স্মৃতি বিভ্রাটের মতো সমস্যা তৈরি করে থাকে। সতেজ ঘুমের পর মানুষের স্মৃতি অনেক প্রাণবন্ত হয়। হৃদয় প্রফুল্ল থাকে। নিদ্রাহীনতার কারণে মস্তিষ্কে নিয়মিত চাপ পড়ে। ফলে স্মৃতির ওপর তা মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঘুমের বিকল্প নেই। সঠিক পরিমাণে ঘুম না হলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
যারা কম ঘুমান, তাদের ওজন কিছু কারণে বাড়ে। তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেক গুণ বাড়ে। ১ হাজার ২৪০ জন নারীর ওপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা কম ঘুমিয়েছেন; তাদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা লক্ষণীয় মাত্রায় বেশি। নিদ্রাহীনতার রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে বেশি।
নিদ্রাহীনতা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি করে। এসব ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিউরের মতো ঘটনাও সচরাচর ঘটে থাকে। মৃত্যুঝুঁকিও অনেক ক্ষেত্রে বাড়ে। ১ হাজার ৭৪১ পুরুষ ও নারীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়; বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। সুতরাং সুস্থ-সুন্দর জীবন ধারণের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি মানুষের ন্যূনতম ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমানো অপরিহার্য। ইন্টারনেট