[size=4][font=SolaimanLipi]কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে [/font][/size][size=4][font=SolaimanLipi]'বন্দী' ও দায়িত্বরত পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে এ সংঘর্ষে ২ পুলিশ কনস্টেবলসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।[/font][/size]
রোববার সকালে কেন্দ্রটিতে এক কিশোরকে দেখতে আসা অভিভাবককে মারপিটের সূত্র ধরে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার পর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র ব্যারাকের ৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।
কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কিশোররা (বন্দী) অভিযোগ করে, রোববার সকালে এক অভিভাবক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে এলে পাহারায় থাকা এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ওই অভিভাবককে মারপিট করে।
ঘটনাটি জানতে পেরে ভেতরে থাকা কিশোররা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা কেন্দ্রটির সহকারী সুপার আবুল বাশারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতিকার দাবি করে।
সহকারী সুপার অভিযোগ আনা কিশোরদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজিত কিশোররা একপর্যায়ে উন্নয়ন কেন্দ্রের অন্তত ২০টি কক্ষের জানালা, প্রিজনভ্যান, পুলিশ ব্যারাক, লাইব্রেরি ও ডাইনিংয়ে ভাঙচুর চালায়। কয়েকজন কিশোর ভাঙা গ্লাস দিয়ে নিজেদের হাত-পা কেটে রক্তাক্ত করে।
উত্তেজিত কিশোররা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপও করে। এ সময় পুলিশ কিশোরদের মারধর শুরু করলে ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে পুলিশ কনস্টেবল তুহিন ও আলমগীর এবং কিশোর নাজমুলসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।
ঘটনার সময় পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা,দায়িত্বরত পুলিশ ও ভেতরে অবস্থানরত কিশোরদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য ২ সদস্য হলেন-সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন ও সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শাজাহান মিয়া।
তিনি বলেন,সাত দিনের মধ্যে কমিটিকে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন,কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের ব্যারাকে দায়িত্বরত ৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য পুলিশ সদস্যদের।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
কেন্দ্রের বন্দীদের অভিযোগ,এখানকার খাবারের মান অত্যন্ত নিম্ন। কর্মকর্তারা অহরহ কিশোরদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও করেন। যে কারণে কিশোরদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন,কেন্দ্রটিতে অবস্থানরত কিশোরদের জন্য দিনে খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৫১ টাকা। আর মাসিক চিকিৎসা খরচ ৫০ টাকা। যৎসামান্য এ টাকাও সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় কিনা,তা খতিয়ে দেখবে নবগঠিত তদন্ত কমিটি।
কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের জন্য স্থাপিত দেশের দু'টি কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের একটি যশোরে অবস্থিত। নানা অব্যবস্থাপনা,দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে। যে কারণে প্রায়ই এখানে অপ্রীতিকর ঘটনা এমনকি 'বন্দী' পালিয়ে যাওয়ার মত গুরুতর ঘটনা ঘটে।
[b]ঢাকা, ৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ
[/b]