চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঠাঁই হচ্ছে না বন্দিদের। ১৭শ ধারণ ক্ষমতার বন্দির স্থলে শুক্রবার পর্যন্ত আটক রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার।
ফলে তিনগুণ বন্দি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। আটকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই রাজনৈতিক বন্দি। প্রতিদিনই নগরী ও জেলার ৩২টি থানা থেকে আটক হয়ে কারাগারে আসছে শতাধিক নতুন বন্দি। ধারণক্ষমতার বেশি হওয়াতে জেলকোড অনুযায়ী বন্দিরা পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে অধিকাংশ বন্দি। এদিকে অধিকাংশ রাজনৈতিক বন্দি জামিন পাওয়ার পর আবার জেল গেটে তাদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে।
গত দু’মাসে প্রায় ৭০ জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীকে জেল গেটে আবার আটক করা হয়েছে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ছটি পাঁচতলা ভবনে ১২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের ধারণক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৭১৩ জনের। এর স্থলে বর্তমানে বন্দি রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার।
এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১০ হাজতি ও ৮৯০ জন কয়েদি। কারাগারে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছে ২৩ জন। এরমধ্যে ২১ পুরুষ ও দু’জন মহিলা। মায়ের সঙ্গে হাজতবাস করছে ৫১ শিশু।
কিশোর অপরাধে বন্দি রয়েছে ১৫ জন। জেএমবি বন্দি রয়েছে ১৫ জন। বিদেশী নাগরিক রয়েছে ৭৬ জন। অসুস্থতার কারণে কারা হাসপাতালে ৯৮ ও চমেক হাসপাতালে ৬ বন্দি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বন্দিদের মধ্যে প্রায় ৭০০ (হাজতি) ছাত্র রয়েছে। এছাড়া কারাগারে ১৬৫ মহিলা বন্দি রয়েছে।
যাদের অধিকাংশই মাদক আইনে আটক রয়েছে। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২ হাজারের বেশি নেতাকর্মী রয়েছেন।
হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নগর ও জেলা পুলিশের সহিংসতার অভিযোগে দায়ের করা প্রায় ২১০টি মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়েছে এসব বন্দি। কারাগার থেকে সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি জানান, অতিরিক্ত বন্দির কারণে তাদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। প্রতি একজন বন্দির স্থলে রয়েছে তিনজন। বন্দির সংখ্যা বেশি হওয়াতে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে তাদের মধ্যে দিন দিন অসন্তোষ দানা বাঁধছে। শুধু খাবার নয়, সংকট রয়েছে পানীয় জলের। ফলে দিন দিন বন্দিদের মাঝে দানা বাঁধছে চরম অসন্তোষ। তবে জেলকোড অনুয়ায়ী একজন বন্দির জন্য ৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ জায়গা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও তাদের ২ ফুটেরও কম জায়গাতে থাকতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম কারাগারে আটক বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার সম্প্রতি আদালতে হাজিরা দিতে এসে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশই রাজনৈতিক বন্দি। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের অধিকাংশ জামিন পাওয়ার পরও জেল গেটে আবার গ্রেফতার করা হচ্ছে। দ্বিতীয়বার গ্রেফতারের ভয়ে জামিন নিতেও অনেকে সাহস পাচ্ছেন না।
বন্দিদের জন্য দৈনিক তিন বেলা খাবারের বরাদ্দ মাত্র ৩৫ টাকা। কম অর্থ বরাদ্দের কারণে প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের। খবর নিয়ে জানা গেছে, কারাগারের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খুব কম টাকায় শাকসবজি ও মাছ-মাংসের দর দিয়ে টেন্ডার পেয়েছে। এসব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বন্দিদের খাবার না দিয়ে নির্যাতন করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন যে পরিমাণ বন্দি আসছে বের হচ্ছে তার থেকে অনেক কম। প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬০০ বন্দি কারাগারে উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি মাসেই বেড়ে যাচ্ছে এর সংখ্যা। পাশাপাশি কারাগারে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটক থাকা বন্দির সংখ্যাও কম নয়। মামলার রায়ের ধীরগতির কারণে তাদের সংখ্যা কারাগারে বেড়ে যাচ্ছে বলেও মত দিয়েছে কয়েকজন আইনজীবী।
সিনিয়র জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, কারাগারের অবকাঠামো বড় হওয়াতে বেশি বন্দিতেও তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না। তারা সঠিকভাবে খাবারসহ প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
[b]
চট্টগ্রাম, ২৫ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এফএ[/b]
শ্রেণীহীন
ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ বন্দি চট্টগ্রাম কারাগারে
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঠাঁই হচ্ছে না বন্দিদের। ১৭শ ধারণ ক্ষমতার বন্দির স্থলে শুক্রবার পর্যন্ত আটক রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। ফলে তিনগুণ বন্দি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। আটকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই রাজনৈতিক বন্দি





