[b]ঢাকা :[/b] একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিনে থাকা জাতীয় পার্টির সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩০ জানুয়ারি ঠিক করেছেন।
সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ দিন ধার্য করেন।
সোমবার সকালে  সৈয়দ কায়সারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি করেন। শুনানি শেষ করার পরে আদেশের জন্য এই দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
এর এগ গত ২৬ ডিসেম্বর অভিযোগ  গঠন না করার পক্ষে আসামিপক্ষের শুনানি শুরু করেন এবং দুইবার পিছিয়ে  আজ শুনানি শেষ করে।    
সকালে আসামীপক্ষের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, সৈয়দ কায়সারকে (এসএসসি) পাশ ব্যক্তি বলা হয়েছে । তিনি  এরশাদ সরকারের সময় তিন বারের মতো মন্ত্রী  ছিলেন তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা  ঠিক না।
আইনজীবী রেজাউল করিম বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ (কোলাবরেটর অ্যাক্ট) দালাল আইনে বিচার হয়েছিল, তখন তিনি বে-কসুর খালাস পেয়েছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ তার বিরুদ্ধে আনি অভিযোগ ভিত্তিহীন। এইক অপরাধে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুইবার বিচার হতে পারে না।  তবে সৈয়দ কায়সারের পক্ষে সিনিয়ার আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার উপস্থিত ছিলেন না।  
পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৩১ ডিসেম্বর দিন অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের টিমের অন্যতম সদস্য প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি শেষ করেন।  আজ নির্ধারিত দিনে শুনানি শুরু করলে তার জুনিয়র আইনজীবীর কাছে  ট্রাইব্যুনাল জানতে চান আপনি কি শেষ করতে পারবেন। তখন তিনি বলেন, সিনিয়র আইনজীবীর শুনানির মাধ্যমে শেষ করবেন। তার  পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির পরবতী এই দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে প্রসিকিউটর  রানা দাসগুপ্ত ও মোহাম্মদ জাহিদ ইমাম এবং আসামীপক্ষে রেজাউল করিম ও আনোয়ার হোসেন  উপস্থিত রয়েছেন।
গত ১১ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৮টি অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন।
গত ১০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের নেতৃত্বে প্রসিকিউশন টিম কায়সারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।
ওইদিন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম সাংবাদিকদের জানান, একাত্তরে হবিগঞ্জের কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ সুবিন্যস্থ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে ১৬ টি অভিযোগে চুড়ান্ত করে প্রসিকিউশন বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। পরে প্রসিকিউশন যাচাই বাছাই করে আরো দুটি অভিযোগ বৃদ্ধি করে তার বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। এ মামলায় ৭০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।