[b]ঢাকা: [/b]আর্থিক খাত উন্মুক্ত করে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এ বছর কমপক্ষে পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরীক্ষামূলকভাবে ওই ব্যাংকগুলো পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করবে।
বেসরকারি এ ব্যাংকগুলো নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা অথবা বর্তমান ব্যাংকগুলো সংস্কার করেও হতে পারে। চীনা এ উদ্যোগের পেছনে কাজ করেছে নিয়ন্ত্রিত আর্থিক খাত কিছুটা খুলে নিয়ে আরেক দফা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির টেউয়ে চড়ার পরিকল্পনা।
চায়না ব্যাংকিং রেগুলেটরি কমিশনকে (সিবিআরসি) উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, পরীক্ষামূলক এ ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর এক প্রক্রিয়া ও মানদণ্ড প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অনুমোদনে সতর্কতা, বর্ধিত নজরদারি ও মানসম্মত একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
চীনের আর্থিক খাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছায়া ব্যাংকিংয়ের প্রসার। অব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ বিতরণ অনেক বেড়ে গিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির অভ্যন্তরীণ ঋণের বোঝা অনেক ভারী হয়ে গেছে। ছায়া ব্যাংকিংয়ে বিতরণ হওয়া ঋণগুলোর উদ্দেশ্য, ব্যবহার ও শর্তাবলি সম্পর্কে স্বচ্ছতা তুলনামূলক কম। সাধারণত দেখা যায়, অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে কিংবা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে মূলধারার ব্যাংক যে ধরনের কাজে অর্থায়নে সম্মত হয় না, ছায়া ব্যাংকিং তুলনামূলক বেশি সুদে সেখানে ঋণ দিয়ে থাকে। ফলে বিভিন্ন অনুত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডে ঋণের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে চীনে।
এসব উদ্বেগ চীনের ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরো কঠোর হতে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে বিগত দুই দশকের উচ্চ প্রবৃদ্ধি শেষে এখন নানা কারণে আগের গতি ধরে রাখতে পারছে না অর্থনীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে ঋণপ্রবাহ কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নীতিনির্ধারকরা দেখেন, তারল্য সংকটের আশঙ্কায় আবার প্রবৃদ্ধি আরো কমে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। ফলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হিসেবে ‘নিয়ন্ত্রিত ঋণপ্রবাহ’ ধরে রাখাই যৌক্তিক মনে করেন তারা।
ব্যাংকিং সংস্কারের বর্তমান উদ্যোগটির বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, ছায়া ব্যাংকিং ও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ওপর কড়া নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে খসড়া পরিকল্পনায়।
খসড়াটির প্রণেতারা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ধরনের কাজে অর্থায়ন করে অর্থনীতির জন্য সুফল এনে দিয়েছে ছায়া ব্যাংকিং। চীনের ছায়া ব্যাংকিং এখানো ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি’ বলেও মনে করছেন তারা। তাদের মতে, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক সংকটের শিক্ষা হলো ছায়া ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকিটি তুলনামূলক জটিল ও লুক্কায়িত। এখান থেকে হঠাত্ করেই সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে গোটা ব্যবস্থাকে আক্রান্ত করতে পারে।
এদিকে চীনের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলেও ব্যাংকিং খাতের তুলনামূলক বিনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মত দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আমানত স্কিমগুলো কেনাবেচার সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না (পিবিওসি)। ‘সার্টিফিকেটস অব ডিপোজিট’ নামে এ আর্থিক পণ্যটির লেনদেন ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে সক্ষম। এক্ষেত্রে বাজারই সুদের হার নির্ধারণ করবে।
এভাবে বিতরণকৃত ঋণের সুদের হার, আন্তঃব্যাংক সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ইত্যাদি নির্ধারণেও বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি চীন। সূত্র: বিবিসি।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]