[b]ঢাকা:[/b] চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়েছে একতরফা সংসদ নির্বাচনের সব প্রক্রিয়া। আগামী রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এ উপলক্ষে সারাদেশে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। এসকল কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে,আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের পক্ষথেকে নেয়া হয়েছে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ২৬ ডিসেম্বর থেকে টহল শুরু করেছে সেনাবাহিনী,থাকবে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত।  
এছাড়া র্যা ব,বিজিবি,কোস্টগার্ড ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে। বিজিবি-র্যা বের প্রহরায় দেশের ৫৯ জেলায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠানো শেষ হয়েছে।  
ইসির নির্বাচন শাখার কর্মকর্তারা জানান,কোনো ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেছে। ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট নেয়ার প্রস্তুতি অবহিত করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইসি সচিবালয়কে অবহিত করেছেন। নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ হেভিওয়েট প্রার্থীরা।
আর আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা লড়বেন স্বল্পসংখ্যক জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে। দেশজুড়ে সহিংসতার কারণে নির্বাচনী আমেজবিহীন নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে প্রাণান্তকর চেষ্টায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। ইসিও ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ দিতে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে বিশেষ প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছে।  
এদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে অর্ধেকের কম আসনে সংসদ নির্বাচনের কোনো নজির নেই। এ অবস্থায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে আওয়ামী লীগ।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,১৪৭ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৩৮৯। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ১১৯,জাতীয় পার্টির ৬৩,স্বতন্ত্র ১০৬ এবং বাকি ১০১ প্রার্থী ১০টি দলের। ইতোমধ্যে ব্যালট পেপার,ব্যালট বক্স,অমোচনীয় কালি,কাঠ পেন্সিল,স্কেল ১৪৭টি নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছে। এবার ব্যালট পেপার মুদ্রণ করা হয়েছে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৪১টি।
এছাড়া প্রতিটি আসনের জন্য ১০০০ করে পোস্টাল ব্যালটও ছাপানো হয়েছে। ১৪৭টি আসনে ভোটার রয়েছে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৮৯ প্রার্থী। মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৮ হাজার ২০৯টি। এতে ৯১ হাজার ২১৩ ভোট কক্ষ রয়েছে।
জানা গেছে,নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭ দিনের জন্য সামরিক বিমান এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এসব বিমান এবং হেলিকপ্টার নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার কারণে দেশের সব জায়গায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা,ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পাঠাতে সমস্যা হতে পারে এজন্য এসব সরঞ্জাম ও লোকবল পাঠাতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশেষ মনিটরিং সেল:  নির্বাচনের সার্বিক অবস্থা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১ জানুয়ারি থেকেই কাজ শুরু করেছে বিশেষ মনিটরিং সেল। প্রাপ্ত পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে কমিশনকে অবহিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় ভিজিল্যান্স টিম ও অবজারভেশন টিম কাজ করছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় সব ধরনের বৈধ অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী ও র্যারব হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে: আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে র্যারব হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,ইসি সচিবালয় ও বাহিনীগুলোর অনুরোধে বিমানবাহিনী প্রয়োজনীয়সংখ্যক হেলিকপ্টার পরিবহনে সহায়তা দেবে। স্ব স্ব বাহিনীর সদরের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগী-হতাহতদের জরুরি চিকিৎসা, স্থানান্তরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক হেলিকপ্টার সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন করবে বিমানবাহিনী। সেনাসদরের বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনাসদস্য রিজার্ভ হিসেবে মোতায়েন থাকবে। তা ছাড়া দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাচন কর্মকর্তা,নির্বাচনী মালামাল পাঠাতেও হেলিকপ্টার প্রয়োজন হয়। এ লক্ষ্যে নির্বাচনের কয়েক দিন আগে থেকে নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত হেলিকপ্টার সার্ভিস দিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিন স্তরের নিরাপত্তা: নির্বাচন সুষ্ঠু করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি। নির্বাচনী মাঠে থাকছে প্রায় সাড়ে চার লাখ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তার বাইরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট,বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট,পুলিশ,র্যা ব,বিজিবি,অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি,আনসার ব্যাটালিয়ান ও এপিবিএন সদস্যরা মাঠে সার্বক্ষণিক টহলে নেমেছেন।
একই সঙ্গে গ্রাম্য পুলিশ,চৌকিদার ও দফাদার নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। এসবের মধ্যে অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি, আনসার ব্যাটালিয়ান গ্রাম্য পুলিশ,চৌকিদার ও দফাদার থাকবে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। পুলিশ প্রতি কেন্দ্রে ৬ জনসহ থাকবে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫৪ জন। সেনাবাহিনী থাকছে ৫০ হাজার। র্যা ব থাকছে ৩০ হাজার। বিজিবি থাকছে ১৬ হাজার। এছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড ও পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।