দশম সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং,সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) নামে মাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ১০০ কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,দশম নির্বাচনে প্রশিক্ষণ খাতে বাজেট ছিল ১০০ কোটি টাকা। কিন্তু ইসির সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে নামে মাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে এ শত কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিসাইডিং,সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার) ভোট নেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে মাত্র ৪ দিন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় । আর এ প্রশিক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন বেশ কয়েকজন ইসির কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মোঃ আবদুল মোবারক।
সূত্র আরও জানায়,৪ দিনে রোজ দু'টি করে মোট ৮টি প্রশিক্ষণ দিয়ে এ শত কোটি টাকা লোপাট করেন তারা। এক কমিশনার ও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মিজানুর রহমান ও তার অনুগত কয়েকজন কর্মকর্তা এ ১০০ কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়েছে অভিযোগপত্রে।  
নির্বাচনন কমিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন,'নির্বাচন কমিশনে কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ৪ দিন প্রশিক্ষণ দিয়ে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
তারা বলেন,মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একই ব্যক্তিকে বারবার প্রশিক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। কোন কর্মকর্তা বছরে একটি প্রশিক্ষণেও অংশ নিতে পারেন না। আবার অনেক কর্মকর্তা প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক খোন্দকার মিজানুর রহমান বলেন, সংসদসহ বিভিন্ন নির্বাচনের প্রয়োজনের কারণেই নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে । এ অর্থ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় হয়েছে।
তিনি বলেন,লুটপাটের যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন ।  
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।    
তবে এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কমিশনার বলেন,দশম সংসদ নির্বাচনের প্রশিক্ষণ নামে মাত্র দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। আর এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাত্র ৪দিনে ৮টি ক্লাস করে এ ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আর এ বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনটি নবম সংসদের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সহ অধিকাংশ দলই বর্জন করে। আর আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্রসহ ১৭টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এছাড়াও নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ায় নির্বাচনটি নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
[b]ঢাকা, এএম, ১৫ মে (টাউইমনিউজ.কম) // এসআর//এনএস [/b]