জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে কেউ সরকারি সুবিধা নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না। এ জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধন করে এ বিধান সংযোগ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আচরণবিধি ২২ (ক) নতুন করে সংযোজন করে বলা হয়েছে- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,ভাইস-চেয়ারম্যান বা মহিলা চেয়ারম্যান বা মহিলা সদস্য,বিধির ২২ ধারাতে যা কিছুই থাক না কেন,তারা পদে থাকা অবস্থায় এসব পদের কোনো একটি পদে প্রার্থী হলে মনোনয়ন দাখিলের পর থেকে ভোটগ্রহণের তারিখ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে উপজেলা পরিষদের অফিস ও যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন না।
২২ (খ) ধারায় বলা হয়েছে,উপজেলা পরিষদ বা এর আওতাধীন কোনো ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার কোনো কার্যক্রমে বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
অন্যদিকে ২২ (গ) ধারায় বলা হয়েছে,সংশ্লিষ্ট উপজেলায় অবস্থিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি,আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বা এনজিওর কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আগে এ বিধান ছিলো না।
তাই এবারের নির্বাচনে পদে থেকে নির্বাচন করতে হলে প্রার্থীকে সরকারি প্রতিষ্ঠান,যানবাহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এ বিষয়ে ইসির উপ-সচিব মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেছেন,পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলার পরিষদের সদস্যদের কোনো বাধা নেই। তবে তাদের সরকারি সুবিধা ছাড়তে হবে।
এছাড়া সংশোধনে আরো নতুন করে কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে,এতে ভোটারদের স্লিপ ব্যবহারে বাধা-নিষেধ আরোপ করেছে কমিশন। বিধি-৮ পর নতুন বিধি ৮ এর ক সন্নিবেশ করে বলা হয়েছে- কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে কোনো ব্যক্তি ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, নিজ ছবি, সংশ্লিষ্ট পদের নাম, প্রতীক, ভোটারের নাম, পিতা বা স্বামীর নাম, মাতার নাম, ঠিকানা, ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্রের নাম ব্যতিত অন্য কিছু উল্লেখ করতে পারবেন না।
ভোটকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে হবে, যার আয়তন হবে ১২ সেন্টিমিটার বাই ৮ সেন্টিমিটার। ভোটার স্লিপে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও তারিখবিহীন কোনো ভোটার স্লিপ মুদ্রণ করতে পারবেন না।
চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছয়টি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুইটি ধাপের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। সে মোতাবেক প্রথম ধাপে ৯৮টি উপজেলার মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি ৯৭টি উপজেলায় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ২৭ ফেব্রুয়ারি,মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২ ফেব্রুয়ারি,মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ৪ ফেব্রুয়ারি এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১১ ফেব্রুয়ারি।
এছাড়া তৃতীয় ধাপে ৭৪ উপজেলার ভোটগ্রহণ হবে ১৫ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৭২ উপজেলায় ২৫ মার্চ, পঞ্চম ধাপে ৬৫ উপজেলায় ৩১ মার্চ এবং ষষ্ঠ ধাপে ৫৭ উপজেলায় ৩ মে ভোটগ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাচনে প্রথম ধাপের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপের ৫২ জেলার ১১৭টি উপজেলার ভোট কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করেছে কমিশন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের তালিকা অনুযায়ী এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। তালিকা অনুযায়ী ১১৭ উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা আট হাজার ১৪৫টি। ভোট কক্ষ ৫১ হাজার ৫৮৭টি। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১১৭টি উপজেলায় ভোটার সংখ্যা এক কোটি ৯৮ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯০৫ জন ও মহিলা ভোটার ৯৯ লক্ষ ১৪ হাজার ১৯২ জন।
[b]ঢাকা, এএ, ৩০ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // [/b]