বরিশালে মাসহ চার মেয়ে হত্যা মামলায় (ফাইভ মার্ডার) দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একইসঙ্গে তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার বরিশাল প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. মতিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি গিয়াস উদ্দিন কাবুল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি গিয়াস উদ্দিন কাবুল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা পেল।
অপরা দিকে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। আমরা ন্যায় বিচারের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করব। আশা করি সেখানে ন্যায় বিচার পাব।
মামলার প্রধান দুই আসামি পুলিশ সদস্য শাহজাহান বৈরাগী ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ বৈরাগীকে ফাঁসির রায় ও প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জনই সহোদর।
এছাড়া মামলার অপর আসামি সুলতান খান, কাইউম খান ও আবুল বাশার বাদশাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ প্রত্যেককে ৫ হাজার করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয়মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আদালত অপর আসামিরা হলেন ফরহাদ হোসেন লাবু, নজরুল ইসলাম চুন্নু, আনিস মাতুব্বর, জামাল চৌকিদার ও পলাতক আসামি করিম হাওলাদারকে মামলা থেকে বেখসুর খালাস দিয়েছেন।
একইসঙ্গে খালাসপ্রাপ্ত পলাতক আসামি করিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় পলাতক করিম হাওলাদার ছাড়া সকলেই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন
আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দন্ডপ্রাপ্তরা সুপ্রিমকোর্টে আপিল করতে পারবেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩০ জুন গভীর রাতে মেহেন্দিগঞ্জের ভাষানচর ইউনিয়নের খলিশার উত্তরপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারীর বসতঘরের সিঁদ কেটে ও দরজা ভেঙ্গে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তানজিয়া বেগম, মেয়ে আঞ্জুমান, সাথী, জান্নাত ও ছেলে ফেরদৌসকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়।
খবর পেয়ে পরেরদিন ভোরে পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিক নিহতদের কোনো স্বজন না থাকায় এলাকার চৌকিদার নুরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে নিহত তানজিয়ার ভাইদের সাথে বাড়ির শরিকদের বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তানজিয়ার আপন দুইভাই পুলিশ সদস্য শাহজাহান বৈরাগী ও শহিদুল ইসলাম ওরফে সাহেদ বৈরাগী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। পরে শাহজাহান ও সাহেদকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়া হলে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়।
২০০৯ সালের ১৯ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন কাজীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আনোয়ার হোসেন তদন্ত শেষে গ্রেফতারকৃত শাহজাহান, সাহেদ ছাড়াও ফরহাদ হোসেন লাবু, ভাষানচর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ওরফে চুন্নু, আবুল বাশার ওরফে বাদশা খান, আনিচ মাতুব্বর, জামাল চৌকিদার, করিম হাওলাদার, সুলতান খান ও কাইউম খানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে রায় ঘোষণা করা হয়।
[b]ঢাকা, জানুয়ারি ২৮ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জিই[/b]
শ্রেণীহীন
বরিশালে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
বরিশালে মাসহ চার মেয়ে হত্যা মামলায় (ফাইভ মার্ডার) দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।য়ায় পাঁচজনকে খালাস দেয়া হয়েছে





