প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্বল অনুসন্ধান এবং তদন্তের কারণে আদালতে দুদকের মামলা খারিজ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
রোবাবর দুপুরে দুদক কার্যালয়ে দুদকের অনুসন্ধানী ও তদন্তকাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ৫দিন ব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত দেশের জনগণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে দুদক কর্মকর্তাদের আরও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, দুদক কর্মকর্তাদের জন্যএই প্রশিক্ষণের জ্ঞান আগামীতে অনুসন্ধান এবং মামলা তদন্তে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আর প্রশিক্ষণ ছাড়া কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বলেন, দুর্নীতি আমাদের সভ্যতার সঙ্গে মিশে আছে। এই দুর্নীতি প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গেও ছিল। বর্তমানে দুর্নীতির ধ্যান ধারণা অনেক পাল্টে গেছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি বলেন, বর্তমানে দেশে ১৫ হাজার আইন আছে। আর হুটকরে একটি আইন  সংশোধন কিংবা পরিবর্তন করলে এর বিরুপ প্রভাব অন্যান্য আইনের উপরও পড়ে। শুধু আইন তৈরি করলেই চলবে না, মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দ্যেশে বলেন, কোনো আইনই মানুষকে অসম্মান করার জন্য তৈরি করা হয় না। আপনাদের অনুসন্ধান এবং তদন্তের সময়ও যাতে কোনো মানুষ অসম্মান না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।
দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, আদালতে দুদকের বেশির ভাগ মামলাই খরিজ হয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে দুদকের  সফলতার চেয়ে ব্যার্থতাই বেশি দেখা যায়। ফলে আইনের ফাঁক ফোঁকড়ে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দুদকের  বিভিন্ন স্তরের অনুসন্ধান এবং তদন্ত কাজে সংশ্লিষ্ট ২৪০ জন কর্মকর্তাকে ৮টি গ্রুপে ৫দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আর এই প্রশিক্ষণ কোর্সে  উচ্চ আদালত ও জেলা জজ আদালতের বাছাই করা সাবেক ও বর্তমান  বিচারকগণ প্রশিক্ষক থাকছেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, দুদকের কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার ড. মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী ও মহাপরিচালক কামরুল হাসান প্রমুখ।
[b]ঢাকা, একে, ৬ এপ্র্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]