বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার চিরিঙ্গা-লামা-আলীকদম-থানচি-সুয়ালক-গজালিয়া সড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জানা গেছে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবিতে এ ধর্মঘট শুরু হয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৯ মার্চ লামা-গজালিয়া জিপ স্টেশনে চট্টগ্রাম-লোহাগাড়া-চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়কে বাস, জীপ, হাইস মালিক ও শ্রমিক নেতারা সমাবেশে যৌথভাবে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেন।
ধর্মঘটে লামা উপজেলার বিভিন্ন রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী টমটম ও থ্রি হুইলার চালিত মাহেন্দ্র মালিক ও শ্রমিক নেতারাও এ ধর্মঘটে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে লামা-আলীকদম-চকরিয়া ও লামা-সুয়ালক-রুপসীপাড়াসহ বিভিন্ন সড়কে বাস, জীপ, মাহেন্দ্র, টমটম চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সংগঠন সূত্র জানায়, গত ৩২ বছর ধরে পার্বত্য লামা ও আলীকদম উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারণসহ স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিতভাবে গাড়ি সেবা দিয়ে আসছেন। তাছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা অব্যাহত রেখে নিয়মিত রাজস্ব প্রদান করে চলেছে গাড়ি মালিকরা। এসব সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের আয়ে প্রায় ৪-৫ শতাধিক মালিক ও প্রায় দুই হাজারেরও বেশি শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
সম্প্রতি কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল দুই উপজেলায় দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল কিনে দৈনিক ৩শ’ টাকা ভাড়ায় উঠতি বয়সী ছেলেদের দিয়ে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত করেছেন। ফলে বাস, জিপ, হাইস ও থ্রি-হুইলার মালিক-শ্রমিক যেমন লোকসান গুণছেন, তেমনি যাত্রীসাধারণের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ চারজন আরোহী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
অনেক যাত্রীরা প্রায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পঙ্গুত্বসহ অকালে প্রাণও হারাচ্ছেন। এসব মোটরসাইকেল থেকে সরকারও কোনো রাজস্ব পায়না। এমনকি জিপ কিংবা বাস গাড়ির নির্ধারিত ভাড়ার তিনগুণ ভাড়া আদায় করে চলেছে মোটরসাইকেলের চালকরা।
চকরিয়া-লামা-আলীকদম সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বাদশা বলেন, মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধের বিষয়ে প্রশাসনকে বার বার অবহিত করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ গত ৯ মার্চ মালিক ও শ্রমিক সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন রুটে ১৭ মার্চের মধ্যে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় চকরিয়া-লামা-আলীকদমসহ অভ্যন্তরীণ সব সড়কে ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ না হওয়ায় সকাল থেকে লামা ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন রুটে পরিবহন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। দাবি পুরণ না হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে লামা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. শাহ্ জাহান খান জানান, গত কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল আটক করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘট পালনের বিষয়টি নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামসুন নাহার সুমি জানান, উপজেলার বিভিন্ন রুটে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ধর্মঘটের ব্যাপারে আলোচনা করতে বাস-জিপ মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সোমবার ডাকা হয়েছিল। এতে তারা সাড়া দেয়নি।
বান্দরবান,১৮মার্চ,টাইমনিউজবিডি//এসএইচ
শ্রেণীহীন
অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে লামায়
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার চিরিঙ্গা-লামা-আলীকদম-থানচি-সুয়ালক-গজালিয়া সড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। জানা গেছে মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবিতে এ ধর্মঘট শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়





