রাজশাহীতে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করছেন মহানগরীর সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসকরা। ফলে অনেক রোগী এসব হাসপাতাল ছেড়েছে। সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবাও বন্ধ। ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীসহ অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মুক্তি ক্লিনিকে বিএমএ ও স্বাচিপসহ চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনিক মালিকদের ৭ টি সংগঠন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
কারাগারে পাঠানো ওই ক্লিনিকের মালিক শামিউল উদ্দিন আহম্মেদ জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আদালত সূত্র জানায়, দুপুরে রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক বিশ্বনাথ চন্দ্র মণ্ডল রোগী মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে শামিউল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুনঃ তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, শামিউল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে বিকেল ৪টা থেকে নগরের সব বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে অনেক রোগী বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে এসে সেবা না পেয়ে ফেরত যায়। রোগনির্ণয় কেন্দ্রে এসেও রোগীরা চিকিৎসক দেখাতে না পেরে ফিরে যায়।
রাত সাড়ে সাতটায় নগরের একটি ক্লিনিকে সংবাদ সম্মেলন করে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। এতে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন বিএমএ রাজশাহীর সভাপতি এস আর তরফদার।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়, শামিউল উদ্দিন মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত নগরের সব ধরনের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগও বন্ধ থাকবে। শুধু বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সব সংগঠন এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে।
মামলায় জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলা গ্রামের আজগর আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আনোয়ারুল হককে (৩৫) গুরুতর অবস্থায় ২৯ জানুয়ারি শামিউল উদ্দিনের ডলফিন ক্লিনিকে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ওই দিন রাত ১০টার দিকে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করার জন্য চেতনানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পরই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ওই রাতেই ভুল চিকিৎসায় স্বামীর মৃত্যুর অভিযোগ এনে ক্লিনিকের মালিকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন আনোয়ারুলের স্ত্রী শারমিন আক্তার। মামলাটি তদন্ত করে ১ মার্চ বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন।
এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুর্ঘটনাবশত আনোয়ারুল মারা যান বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জোবাইদুর রহমান।[b]
[b]রাজশাহী, ২৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]//এএইচ[/b]