[b]ঢাকা: [/b]বাংলাদেশে দশম জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের কূটনীতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় পড়তে যাচ্ছে ভারত। হাসিনা সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য ভারত কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিরোধী দলের দাবি মেনে নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ভারতকে এরকমই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রোববার ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
কূটনীতিক সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কতিপয় আলোচক ভারতীয় আলোচকদের এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে শেখ হাসিনা বিরোধী দলের দাবি মেনে নিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কোনো শূন্যস্থান রাখতে চাননি, যাতে তৃতীয় শক্তির ক্ষমতা দখলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। আর নির্বাচন করার মাধ্যমে তিনি চেয়েছেন যাতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাও পূরণ হয়। শেখ হাসিনার কাছ থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে তার দল আবারও নির্বাচন দিতে সম্মত হবে, যদি এই নির্বাচনের পর সংলাপে কোনো ফল পাওয়া যায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ যাতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার মুখে না পড়ে, সেজন্য ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এজন্য বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো ও বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে ভারত।
বিএনপি ছাড়াই রোববার বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ১৪৬টি আসনে। এরই মধ্যে শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন আবার ক্ষমতায় এলে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। কারণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন নিয়ে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বিশ্ব মিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাচনের কড়া সমালোচনা করেছে। ফলে নয়াদিল্লির ভয়, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশ শেখ হাসিনার নতুন সরকারকে অনুমোদন না-ও করতে পারে, যা সরকারকে বিপাকে ফেলবে। ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়া ঠিক একই পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, যেখানে হাসিনা খালেদার অবস্থানে ছিলেন। তখন বড় কোনো শক্তি মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। তবে সে সময় গণ-আন্দোলনে খালেদা সরকারের পতন হয়।
বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা একাধিক বৈঠক করেছেন বলেও জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। পত্রিকাটি জানায়, একপর্যায়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও ভারত সফর করেন। তবে দুই দেশের মতপার্থক্যের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা বিএনপির প্রধান মিত্র।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জামায়াতের ব্যাপারে অনেক বেশি ইতিবাচক। এমনকি তারা এই বার্তাও বহন করেন যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে একটি বৈধ ইসলামী দল হিসেবে দাঁড়াতে শুরু করেছে। কিন্তু জামায়াতকে ভারত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় আলোচকরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে জামায়াতের কাছ থেকেও সরে আসতে বলেছিলেন। ভারতের প্রস্তাবে কখনই সম্মতি দেননি খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচন শেষে ভারত এখন বাংলাদেশ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় আলোচনা করতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করবে, যে রাষ্ট্রটির হাতে রয়েছে চাবিকাঠি। এ ছাড়া কমনওয়েলথসহ অন্যান্য ফোরামেও আলোচনা করতে যাচ্ছে। ভারত বর্তমানে কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রুপরও সদস্য, যার ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ায় বাধা দিতে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। শত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও জনগণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন না হলে দেশ কোথায় যেত? দেশ সাংবিধানিক সংকটে পড়ত। এখন শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে।  
বিএনপির দাবি, একদলীয় নির্বাচন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্জন করেছেন, ঘৃণাভরে ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন। নির্বাচন হয়ে গেলেও বিরোধী জোটের কর্মসূচি বন্ধ হয়নি। অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির সঙ্গে আজ সোমবার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল যোগ করেছে তারা।
এই নির্বাচনে ভোট দেননি প্রধান বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দলের নেতা এরশাদ। কারণ, তাঁরা গৃহ বা হাসপাতালবন্দি। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে ভোট দেননি দেশের আরও অসংখ্য মানুষ। কারণ, তাঁরা বিবেকের কাছে বন্দি। সংসদ নির্বাচনের নামে পৃথিবীর ইতিহাসে অভূতপূর্ব এই নির্বাচনী তামাশা তবু নীরবে সহ্য করতে হয়েছে মানুষকে। সূত্র: দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।