[b]ঢাকা:[/b] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধের মধ্যেও রফতানি বেড়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী জোট ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি দিয়ে রফতানি বন্ধ করে দিতে পারেনি। এত জ্বালাও-পোড়াওয়ের মধ্যেও রফতানি ১৮ শতাংশ বেড়েছে।
শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৯তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়নি দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, "আমাদের আমলে কোনো ব্যবসায়ীকে কোনো ভবনে গিয়ে চাঁদা দিয়ে আসতে হয়নি। আমরা কোনো হাওয়া ভবন খুলিনি।"
নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্য যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাবে।"
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেছে। বিশ্ব মন্দার কারণে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অনেক দেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেত পারেনি। কিন্তু বাংলাদেশ ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে পৌঁছেছে। দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন নতুন বাজার খোঁজার প্রতি মনোনিবেশ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। এক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে মানের সঙ্গে আপোষ না করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আপনার কারখানা চালান। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের ভালোমন্দ আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রেও সরকার সব সময় আপনাদের সহায়তা দিয়ে যাবে।"
পরে প্রধানমন্ত্রী ১৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। মাসব্যাপী এ মেলা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এবারের বাণিজ্য মেলায় দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, চীন, মালয়েশিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক ও সিংঙ্গাপুরসহ ১২টি দেশের পণ্য প্রদর্শিত হবে।
মেলায় প্যাভেলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, মিনি প্যাভেলিয়ন, সাধারণ স্টল ও রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন স্টলে রকমারি সরঞ্জাম, কসমেটিকস, স্টেশনারি, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, পাটজাত পণ্য, কার্পেট, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা, জুয়েলারি, খেলনা, সিরামিকস পণ্য, মেলামাইন বস্ত্র, আসবাবপত্র, হস্তজাত তৈজসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে।