সুড়ঙ্গ তৈরি করে ছায়াছবি ও শিহরণ জাগানো গোয়েন্দা কাহিনীকে হার মানানো কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের টাকা লুট ‘এখনও টক অফ দ্য কান্ট্রি’। আর ঘটনার দু’দিনের মধ্যে টাকা উদ্ধার ও ঘটনার হোতাকে আটক করে র্যা বের চৌকস গোয়েন্দা দল গোটা জাতিকে চমকে দিয়েছে।
তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে পুলিশ বাহিনীর চূড়ান্ত অভিযানের প্রাক্কালে র্যা বের সফল অভিযানে দ্রুত সমাপ্তি ঘটে এ চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত কাহিনীর। ঘটনার নায়ক সোহেল রানা ওরফে ইউসুফ মুন্সী ও তার ছোট ভাই ইদ্রিস মুন্সী বর্তমানে কিশোরগঞ্জ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের কোর্টে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের জন্য রিমান্ডে এনেছে। অপরদিকে মাত্র একজন ব্যক্তি  এ অবিশ্বাস্য ও দুঃসাহসিক গল্পের পটভূমি তৈরি করা নিয়ে এবং এ ঘটনায় অন্য কারও প্রত্যক্ষ ভূমিকা না থাকার বিষয়টি জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্নের।
দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে দেশে ফিরে সোহেল রানা ছদ্মনাম ধারণ করে পটুয়াখালীর যুবক ইউসুফ মুন্সী দুই বছরের অধিক সময় কিশোরগঞ্জে অবস্থান করে যে অবিশ্বাস্য ও পিলে কাঁপানো গল্পের সৃষ্টি করেছে- সে গল্পটার এত দ্রুত যবনিকাপাত ঘটবে তা যেন কেউই বিশ্বাস করতে পারছে না।
কি সংবাদপত্র পাঠক, কি ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার শ্রোতা-দর্শক, কি সাধারণ জনতা, কি আইনশৃংখলা বাহিনী, কি অপরাধ বিশেষজ্ঞ সবার কাছেই এ ঘটনাটি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। আর এ কারণে এই ঘটনা ও এর নেপথ্য ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়াশা ও ধূম্রজালের।
ব্যাংকের পাশে সুবিধাজনক স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ দুই বছর সময় ইঁদুরের মতো মাটি কেটে কেটে দক্ষ ও সুনিপুণ প্রকৌশলীর মতো তৈরি করা হয় এ পাতালপথ। তারপর নির্বিঘ্নে ব্যাংকের ভল্ট রুমে প্রবেশ করে লুট করা হয় এ ব্যাংকের ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
আর এ টাকা ভল্ট রুমের টেবিল থেকে একা একা সুড়ঙ্গ পথে বাসায় নিয়ে এসে বস্তা ভর্তি করা হয়। আর ওই বিপুল পরিমাণ টাকার বস্তা অন্য এক ভাড়াটের কক্ষসংলগ্ন ভাঙা বেড়ার বাসায় রেখে বাইরে গিয়ে একা একা ২শ’ বস্তা চাল কিনে ট্রাক ভাড়া নিয়ে ঘটনাস্থলের কাছে এসে রিকশায় করে ওই ট্রাকে টাকার বস্তা তোলার কাহিনীকে অনেকেই সত্য বলে ভাবতে পারছেন না।
অনেকেরই ধারণা এই পুরো ঘটনার পেছনে আরও ভয়ংকর প্রকৃতির কোনো ব্যক্তি কিংবা সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হাত রয়েছে। কেননা প্রশ্ন উঠছে লেখাপড়া না জানা সোহেল রানা মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাস জীবনে ট্যানেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ কর্মী হিসেবে লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করতে সক্ষম হলেও তার পক্ষে এ ধরনের ঘটনার সফল পরিকল্পনাকারী হওয়া সম্ভব নয়।    
এ চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল মালেকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সোহেল রানা কিশোরগঞ্জ থেকে শ্যামপুর পর্যন্ত যে ট্রাকে করে চালের বস্তার সঙ্গে টাকা বহন করেছিল এবং শ্যামপুর থেকে যে কাভার্ড ভ্যান ভাড়া করেছিল সে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেলপারদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদের একজনের মোবাইল নাম্বারও সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই সূত্রধরেই তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ সময় তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পরপরই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দেয়া তথ্যানুযায়ী মামা শ্বশুর পরিচয়ের কথিত পরামর্শদানকারী সিরাজ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের গ্রেফতার অভিযানের আওতায় রয়েছে।
তবে সর্বশেষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে ঘটনার দায় তার একার ওপর বর্তানোর চেষ্টা করছে। তার জবানবন্দি গভীরভাগে পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
[b]ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]