বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) আজিজ আহমেদ বলেছেন, সীমান্ত হত্যা প্রত্যাশিত নয়। তবে পূর্বের তুলনায় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমেছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে সর্ব প্রথম সীমান্তবর্তী দু'দেশের জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় যাতে কোনো ধরণের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিজিবি'র বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তদুপরী আমরা সকল সমস্যা মোকাবেলা করে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান রোধ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি।
তিনি বলেন, চোরাচালান রোধ ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবি বিএসএফ-এর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে না আনা পর্যন্ত বিএসএফ-বিজিবি এক সাথে কাজ করে যাবে। দুই দেশের স্বার্থেই সীমান্ত হত্যা বন্ধ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মেজর আজিজ আহমেদ আরও বলেন, বিজিবি’র বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত বাহিনী সীমান্ত এলাকায় তাদের স্বার্থে রাস্তা তৈরি করেছে, কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। আমাদের রাস্তাও নেই, সব জায়গায় আমাদের কাটাতারের বেড়াও নেই। একারণে অনেক আন্তরিকতা থাকা স্বত্ত্বেও সীমান্ত চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তে ৯৩৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিজিবি আরও ভালো কাজ করতে পারবে।
তিনি বলেন, মায়ানমারের সাথে আমাদের যোগাযোগ সন্তোষজনক নয়। তাদের বৈদেশিক নীতির কারণে আমাদের আন্তরিকতা থাকা স্বত্ত্বেও ভালো সাড়া মিলছে না। একারণে রোহিঙ্গা সমস্যাও সহসা মেটানো যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিজিবি সফল দাবি করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, বিজিবি’কে পুনর্গঠনেরর লক্ষ্যে যুগোপযোগী আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে আইন-২০১০” তৈরি করা হয়। এই আইন যদি আরও আগে পাশ করা হতো তবে বিডিয়ার বিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটতো না।
ফেলানী হত্যার রায় প্রসঙ্গে মেজর আজিজ বলেন, ফেলানী হত্যার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আগামী এপ্রিলে বিএসএফের সাথে বিজিবি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে বিজিবি'র পক্ষ থেকে ফেলানী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের আবেদন করা হবে।
জঙ্গি ছিনতাই ও ২ জঙ্গি পলাতকের বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ ঘটনার পরেই আমরা ময়মনসিংহ ত্রিশালসহ দেশের সব সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। এজন্য বিএসএফ-এর সাথেও আমরা যোগাযোগ করেছি যাতে এ ধরণের অপরাধীরা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিগত ৫ বছরের বিজিবির সফলতা ব্যর্থতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, বিজিবি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। সরকার ও জনগণের প্রয়োজনে বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বিজিবি’র ভুল-ক্রটি তুলে ধরে সংবাদ পরিবেশন করারও আহ্বান জানান।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর[/b]
শ্রেণীহীন
সীমান্ত হত্যা বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে বিজিবি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) আজিজ আহমেদ বলেছেন, সীমান্ত হত্যা প্রত্যাশিত নয়। তবে পূর্বের তুলনায় সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমেছে। ফেলানী হত্যার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেলানী হত্যার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আগামী এপ্রিলে বিএসএফের সাথে বিজিবি একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে





