মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যশোর জেলা রাজাকার ও আলবদর বাহিনীর তৎকালীন কমান্ডার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের ব্যক্তিগত তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার এ সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন ইসির কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন যুদ্ধাপরাধীর ওই তথ্য সরবরাহ করতে যাচ্ছে। এর আগে একইভাবে সৈয়দ কায়সার ও এটিএম আজহারুল ইসলামের তথ্য ট্রাইব্যুনালে দিয়েছিল কমিশন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে যশোর জেলা রাজাকার ও আলবদর কমান্ডার মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কোন নির্বাচনে অংশ নেন এবং কি ধরনের তথ্য দিয়েছিলেন তার সারসংক্ষেপ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে, সাখাওয়াত হোসেন জামায়াতের প্রার্থী হয়ে দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। প্রথম অংশ নেন ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে। এ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। পরে ’৯৬ সালে ওই দলের প্রতীকে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। এর পর নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। পরে সাখাওয়াত হোসেন বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলে যোগ দেয়।
কমিশনের প্রস্তুত করা চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপিদের জীবনবৃত্তান্ত নির্বাচন কমিশনে থাকে না। সংসদ নির্বাচন ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রাপ্ত ভোট সম্পর্কিত তথ্যাদি রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে সাখাওয়াত হোসেনের সংশ্লিষ্ট অংশের সত্যায়িত ছায়ালিপি প্রেরণ করা হল। সেখানে মো. সাখাওয়াত হোসেনের পিতার নাম মৃত ওমর আলী, গ্রাম-হিজলডাঙ্গা, থানা-কেশবপুর এবং জেলা-যশোর উল্লেখ করা হয়েছে।
[b]ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]