[b]ঢাকা:[/b] বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,অনৈতিক ও অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরে বলেছেন,'কোন দেশি বিদেশি চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেননি, করবেন না।' এই কথা উচ্চারণের মধ্য দিয়ে তার প্রকৃত মানসিকতা প্রকাশিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার স্বভাব সুলভ দাম্ভিকতাপূর্ণ উক্তির মাধ্যমে আবার জাতিকে জানিয়ে দিলেন তিনি দেশের জনমতকে, আন্তর্জাতিক মতামতকে তোয়াক্কা করেন না।
সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল আরো বলেন,বিশ্বায়নের এই যুগে বিদেশি রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর মতামতকেও তিনি অবজ্ঞা করেছেন। অথচ এই বিদেশিদের সহযোগিতা নিয়েই ২০০৮ সালে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন যা দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলোতে অনেকবার প্রকাশিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্র-যন্ত্রকে নির্মমভাবে ব্যবহার করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, ভোটের অধিকার হরণ করে, নিপীড়ন, নির্যাতন, দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে জাতিকে আবারও চরম অনিশ্চয়তা, অস্থিতিশীলতার গভীর অন্ধকার নিক্ষেপ করতে চান।
মির্জা ফখরুল দাবী করেন,বিগত ৭৫ দিনের নজিরবিহীন আন্দোলনে জনগণ মতামত দিয়েছে যে, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যতীত নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। তথাকথিত ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে মাত্র ৩% থেকে ৫% ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে। এই নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রামী গণতন্ত্রকামী মানুষ আর একটি বড় বিজয় অর্জন করেছে।  জনগণের ন্যায়সংগত আন্দোলন কখনও ব্যর্থ হয় না।
মির্জা ফখরুল বলেন, তথাকথিত সাজানো একতরফা নির্বাচন দেশে-বিদেশে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। জনগণের বিজয় সূচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছলচাতুরী করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে ক্ষমতায় যেতে পারে কিন্তু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। শতকরা সর্বাধিক ৫% ভোটারের উপস্থিতিতে প্রহসনের নির্বাচনের তামাশা দিয়ে প্রতিনিধিত্বহীন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,অহংকার ও দাম্ভিকতা পরিত্যাগ করে, জনমতকে সম্মান প্রদর্শন করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে, নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অতি দ্রুত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেই কেবলমাত্র এই ভয়াবহ সংকট থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা সম্ভব। জনমতকে সম্মান প্রদর্শন করলে নতি স্বীকার করা হয় না-বরং প্রকৃত দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
আওয়ামী লীগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে তা নিরসনের জন্য আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কালে জনগণের দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশিত জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অবিলম্বে এই জনসমর্থনহীন সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠনই একমাত্র পথ বলে আমরা মনে করি। আর এটা যত দ্রুত হয় ততই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।