[b]চট্টগ্রাম:[/b] ডিজেল মাল্টিপল ইউনিট (ডেমু) ট্রেন এখন রেল কর্তৃপক্ষের গলার কাঁটা। ঘন ঘন যান্ত্রিক ক্রটি, কম যাত্রী যাতায়াতসহ নানা সমস্যার কারনে ডেমু ট্রেনে প্রতি মাসে রেলওয়েকে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে।
৪ মাস ডেমু ট্রেন পরিচালনা করে পূর্বাঞ্চল রেলের লোকসান হয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চালুর মাত্র ৯ মাসের মধ্যে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বিভিন্ন কারখানায় পড়ে আছে ৫ সেট ট্রেন। বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে নাশকতার আশংকায় সচল ট্রেনগুলোর চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ দু’মাস ধরে এসব ট্রেন বন্ধ থাকার কারণে সচল ট্রেনে যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, গেল বছর ২৪ এপ্রিল থেকে এ ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তখন থেকে ডেমু ট্রেনে নানা ক্রটি লেগে আছে। ১ অক্টোবর থেকে যান্ত্রিক ক্রটির কারণে চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কারখানায় মেরামতাধীন রয়েছে দুই সেট, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এক সেট লাকসাম লোকোশেডে মেরামতাধীন। যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী শেডে ও ঢাকা লোকোশেডে দুটি ডেমু ট্রেন মেরামতাধীন রয়েছে। দেশীয় প্রকৌশলীদের ডেমু ট্রেন সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার কারণে এসব ট্রেনে ক্রটি সারানোর জন্য চীন থেকে আনতে হয় প্রকৌশলী।
ফলে ক্রটি সারতেও ব্যয় হচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। নিুমানের ডেমু ট্রেন কেনা নিয়ে শুরু থেকে রেল কর্মকর্তাদের মাঝে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়। রেলওয়ের অপারেশন বিভাগ কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও কাদের ইঙ্গিতে চীন থেকে এ ট্রেন কেনা হয়েছে তা উদ্ঘাটনের জন্য একাধিক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তবে রহস্যজনক কারণে গঠিত কমিটির একটিরও রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে ডেমু ট্রেন চালু হয়। চালুর ৪ মাসে এই ট্রেন প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।
কমিউটার সার্ভিস চট্টগ্রাম-লাকসাম রুটে ২ সেট ও লাকসাম-নোয়াখালী রুটে ১ সেট ট্রেন গত বছরের জুন মাসে ২৫ দিন চালিয়ে আয় করেছে সাড়ে ১১ লাখ টাকা, জুলাই মাসে ২২ দিন চালিয়ে ২৫ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা, আগস্টে ২৫ দিন চালিয়ে সাড়ে ৮ লাখ টাকা, সেপ্টেম্বরে ২৩ দিন চালিয়ে ৮ লাখ টাকা আয় করেছে। সাপ্তাহিক বন্ধ ও রাজনৈতিক কারণে ২৭ দিন ট্রেন বন্ধ রাখা হয়।
ওই সময়ে সর্বমোট ১২২ দিনে ট্রেন চালিয়ে আয় হয়েছে মোট ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। জানা গেছে, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও যানজট নিরসনে চীনের তাংসাং রেলওয়ে ভেহিকেল কোম্পানি লিমিটেড থেকে ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু ট্রেন কিনতে ২০১১ সালের ৪ আগস্ট চুক্তি করে রেলওয়ে।
এ ট্রেনের যন্ত্রাংশ উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ করে দিয়েছে চীন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য এ কমিউটার ট্রেন নামানো হলেও যাত্রীদের জন্য এখন বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল জিএম মকবুল আহমেদ যুগান্তরকে জানান, হরতাল-অবরোধে নাশকতার আশংকায় ডেমু ট্রেনগুলো চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কতটি যান্ত্রিক ক্রটির কারণে বন্ধ রয়েছে তা জানা নেই। সূত্র: যুগান্তর