ঢাকা: সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেষ পলায়ন করলেন ইলেকশন ওর্য়াকিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি) নামের সংগঠনটির কর্তা ব্যাক্তিরা।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংগঠনটির দেয়া অনেক তথ্যের গড়মিল নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এক পর্যায়ে বিব্রত অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন আয়োজকরা।
এসময় সাংবাদিকরা কেউ কেউ বলেন,  আপনারা কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারছেন না; বরং সরকারের পক্ষে দালালি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দশম জাতীয় নির্বাচনে ৩০ ভাগ ভোট পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে ইলেকশন ওর্য়াকিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পক্ষ থেকে।
যদিও ফেমা,  মানবাধিকার কমিশনসহ দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যম ব্যক্তিরা বলেছেন,  নির্বাচনে ১০ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি।
ভোটাররা যেমন এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি আমরাও নির্বাচনের উৎসব আমেজ নিয়ে কাজ করতে পারিনি বলে জানান ইডব্লিউজির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জানিপপ এর চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।
ভোটার উপস্থিতি সর্ম্পকে সংগঠনটি জানায়,  দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শতকরা ভোটার উপস্থিত হয়েছে ৩০.০১। এদের মধ্যে মহিলা ৩১.০২ আর পুরুষ ২৮.০৯।
ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখানো হচ্ছে বলে এ সময় দাবি করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তারা বলেন,  আমরা সারাদিন মাঠে ছিলাম,  কোনো কেন্দ্রেই দিনশেষে ৮-১০ ভাগের বেশি ভোটার উপস্থিত দেখা যায়নি। কিন্তু আপনারা ভোটার বেশি দেখিয়ে নির্বাচনকে বৈধতা দিতে চাচ্ছেন?
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি ড. কলিমউল্লাহ বা তার সহযোগীরা।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় কলিমুল্লাহর এ সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়,  সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি হল গোপালগঞ্জ-১ আসনে। এখানে শতকরা উপস্থিতি ছিলো ৭৪ ভাগ।
অন্যদিকে ৬.০৪ ভাগ নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে ঢাকা-১৭ আসন। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৮৭.৯৩ এবং ২০০১ এর নির্বাচনে ৭৪.৩৭ ভাগ ভোট পড়েছিল।
অনুষ্ঠানে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন ইডব্লিউজি’র পরিচালক আবদুল আলিম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি জানান,  সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আমরা পর্যবেক্ষণ না করায় অনিয়ম এবং জালিয়াতি সম্পর্কে কিছু বলতে পারছিনা।
তবে কেন পর্যবেক্ষণে গেলেন?  সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে তারা বলেন,  নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল।
সাংবাদিকরা বলেন,  দেশি-বিদেশি সকল গণমাধ্যমে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কি?  সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নে উত্তর দিতে পারেনি ২৯টি পর্যবেক্ষক সংগঠনের দাবিদার ইডব্লিউজি’র কর্তাব্যক্তিরা। যদিও ২৯টি সংগঠনের সমন্বয় বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে এসব সংগঠনের প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে মাত্র কয়েকজন সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।
সহিংসতা সম্পর্কে ইডব্লিউজি কর্মকর্তারা তাদের প্রতিবেদনে বলেন,  দশম জাতীয় সংসদে সহিংসতা হয়েছে মোট ৭২টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল রংপুরে ২৯টি আর রাজশাহীতে ২৩টি।
এসময় সাংবাদিকরা বলেন সহিংসতার পরিমাণ আরো বেশি হয়েছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু আপনারা সরকারের দালালি করছেন কেন? এ সময় বিব্রত অবস্থায় পড়েন নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ও তার সহযোগীরা।
দেশের অন্যতম পর্যবক্ষক সংগঠন ফেমা এবং ইইউ,  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। কিন্তু আপনারা কেন গেলেন?  সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেনি সংগঠনটি।
বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ কি?  সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তারা কিছুই বলতে পারেননি। যদিও নিজেদেরকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দাবি করেছেন তারা।
কিছু সংখ্যক সংসদীয় আসনে ক্ষমতাশীন দলের সাংসদদের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইডব্লিউজি’র পর্যবেক্ষকদেরকে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন বলে দাবি করে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন তারা।