[b]ঢাকা:[/b] বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র শুরু হয়েছিল ‘আমরা বাংলাদেশের জনগন ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি’ এই বক্তব্য দিয়ে। শুধু তাই নয় প্রস্তাবনায় স্পষ্ট করা হয়েছিল ‘ ... বাংলাদেশের জনগনের অভিপ্রায়ের অভিব্যাক্তি স্বরুপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র দায়িত্ব’ ।
রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার এই প্রস্তাবনাটির মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চরিত্রের একটি রাষ্ট্র হিসেবে অনন্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে যারা বলতে পেরেছে ‘আমরা.. দেশের জনগণ’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রি। যদ্ওি ভারতের সংবিধানে ‘ আমরা ভারতের জনগন.. এই গণপরিষদে .. এই সংবিধান গ্রহণ করিতেছি বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভারতের সংবিধানের আইনগত ভিত্তি হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন; ভারতের জনগন নয়। কারণ সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ভারতের গণপরিষদ গঠিত হয়নি । আর বাংলাদেশের গণপরিষদ ছিল সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্বাচিত। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার (ফিলাডেলফিয়ার) ঘোষনায়ও বলা হয়েছে ‘উই দ্যা পিপলস রিপাবলিক অব ইউনাইটেড স্টেইটস অব অ্যামেরিকা’ অর্থাৎ আমরা মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের জনগন। কিন্তু ফিলাডেলফিয়া সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক মজুরের কোনো প্রতিনিধিত্ব ছিলনা। সেদিক দিয়ে বলা চলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার গণতান্ত্রিক নৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী ও সুদৃঢ। শুধু তাই নয় সংবিধানের ৭(১)অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ’। কিন্তু অত্যন্ত দু:খ পতিাপের বিষয় হচ্ছে ৫ ই জানুয়ারির জালিয়াতির ভোট সম্পন্ন করার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে সাংবিধানিক এ শ্রেষ্ঠত্ব ম্লান করে দিয়েছে কাজী রকিব উদ্দিন আহম্মদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
জনমানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেবার এ নির্বাচন বিশ্বের ইতিহাসে কালো নির্বাচন হিসেবেই স্থান করে নিবে তাতে সন্ধেহ নেই।
পৃথীবিতে এমন একটি নজিরও খুঁজে পাওয়া যাবেনা যেখানে অর্ধেকের চেয়ে বেশি জনপ্রতিনিধি জনগনের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছেন। তবে রকিব কমিশন এমন একটি কালো অধ্যায় রচনা করার জন্যই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তা বুঝা গিয়েছিল কমিশনে তাদের প্রথম পা রাখার পর থেকেই। কারণ ছাত্র জীবনে তারা প্রত্যেকেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তা তাদের সাথে আমার ব্যাক্তিগত আলোচনায় ফুটে উঠে। তবে ছাত্র জীবনে কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতেই পারেন। তাতে দোষের কিছু দেখছিনা।
মূল বিপত্তিটা হলো একজন ব্যাক্তি শপথ নিয়েছেন ‘আমি সংবিধাণের রক্ষণ,সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমার সরকারী কার্য ও সরকারী সিদ্ধান্তকে ব্যাক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না’। এই শপথ নেবার পর সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করা রাষ্ট্র দ্রোহিতার শামিল। আজ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এই রকিব কমিশন দেশের ৯০ শতাংশ ভোটারের মতামত দেয়ার সুযোগ না দিয়ে সংবিধাণের রক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সংবিধানের মূল চেতনাকে জেনে বুঝে ধ্বংস করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমরা ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সমর্থক অনেককেই দেখতে পেয়েছি। কিন্তু যখনই তারা দায়িত্ব পালন করেছেন দলমতের উর্ধ্বে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সে কারণেই ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশ্বের বুকে একটি শক্তিশালী কমিশন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর সিইসি ড. এটিএম শামসুল হুদা একাধিকবার গণমাধ্যমে বলেছিলেন, কারা নির্বাচন কমিশনার হচ্ছেন তাঁর উপর নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। শুধু তাই কমিশনার নিয়োগে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে একটি কমিশন গঠণের খসড়া প্রস্তাবনাও করেছিল হুদা কমিশন। এছাড়া নির্বাচনকে আরো গ্রহনযোগ্য করতে এবং আইনী কাঠামোতে সংস্কার আনতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সহ ১৮ দলীয় জোট হুদা কমিশনের সংলাপ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নামকাওয়াস্তে সংলাপে যোগ দিলেও এবিষয়ে কোনো মতামত দেয়নি। এমনকি কমিশনের প্রস্তাবিত নির্বাচনী আইনী সংস্কার প্রস্তাব আমলে পর্যন্ত নেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রধান দুই দলের এই আচরণে একটি বিষয় পরিষ্কার যে তারা চান শুধুমাত্র ক্ষমতার মসনদ। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রকৃত গনতন্ত্রের পথে নিয়ে আসার যেই চেষ্টা চালাবেন তাকে হয় তিরস্কার অন্যথায় চেয়ার হারাতে হবে।
ফিরে আশি নির্বাচন কমিশনার দায়বদ্ধতার বিষয়ে। বিদ্যমান সংবিধানের ১২৩ এর ৩ ক অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ ভেঙ্গে যাবার ৯০ আগ থেকে নির্বাচন কালীন সময়ের শুরু।এছাড়া সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ কাজে লাগাবার অবাধ সুযোগ দিয়েছিল কমিশনকে কিন্তু এই নব্বই দিন সময়ে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ তৈরীতে এই কমিশন ছিল যেনে বুঝে উদাসীন । আর এই উদাসীনতার সুযোগে নির্বাচনকালীন সরকার হামলা, মামলা, বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা এমন কি নেই যে করেনি। এর দায় থেকে কমিশন কিছুতেই মুক্তি পেতে পারে না। এসব বিষয়গুলি নাগরিক সমাজ কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল্ওে কমিশন থেকে বলা হয় তফসিল ঘোষনার পর কমিশন এসব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখলাম তফসিল ঘোষনার পর কমিশন বিরোধী দলকে আস্থায় আনার নূন্যতম কোনো পদক্ষেপ তো নিলেনই না প্রকারান্তরে দুই শতাধিক লাশ উপহার পেলো বাংলার মানুষ। একে গণহত্যা ছাড়া আর কি বলা যায় । তফসিল ঘোষনার পর এত লোকের প্রাণহাণি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে এছাড়া হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে নেয়া হল। বুল্ডোজর দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হলো আবাসস্থল ।
হুদা কমিশন ২০০৮ সালে বিএনপিকে ভাঙ্গার চেস্টা করেছিল একটি চিঠির মাধ্যমে। কিন্ত এটি যে একটি মস্ত বড় ভূল ছিল এটি বুঝতে পেরে কাল বিলম্ব না করে বিএনপির উভয় গ্র“পের সাথে বৈঠক করে কমিশন এবং তিন দফা তফসিল পিছিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সক্ষম হয় হুদা কমিশন। যা রকিব কমিশনের জন্য রেফারেন্স হতে পারতো। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি সহ নিবন্ধিত বেশীরভাগ দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে কমিশনের নূন্যতম কোনো উদ্যোগ কেউ দেখেছে বলে মনে হয় না। প্রকারান্তরে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১৫৩ জন সংসদ সদস্যকে সিলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত করার কাজেই ব্যস্ত থেকেছে পুরো কমিশন। এ নিন্দনীয় ও অমার্জনীয় অপরাধের দায় কমিশনকেই নিতে হবে। কারণ সরকারের সাজানো রিটার্নিং অফিসাররা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষ হবার দুই দিন পরও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের অবৈধ কাজ করেছেন। যা গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু একজন রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে নূন্যতম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কমিশন।
রিটার্নিং অফিসারগণ যেহেতু জেলা প্রশাসক সেহেতু নির্বাচনে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে হরহামেসাই প্রশ্ন উঠে। এজন্য হুদা কমিশনের প্রস্তাব ছিল কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত করা । কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিযুক্ত করায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল কি হয়েছিল এটা সবারই জানা। কিন্তু বর্তমান কমিশন হুদা কমিশনের এই স্পিরিটকে এগিয়েতো নেননি বরং সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে কমিশনারদের তোপের মূখে পড়তে হতো।
তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের অন্যতম বড় দায়িত্ব ছিল সবার জন্য অভিন্ন নির্বাচনী ক্ষেত্র তৈরী করা। যাতে তারা সম্পূর্ন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সবার জন্য অভিন্ন মাঠ তৈরীতে আচরণ বিধি প্রার্থীরা দেদারসে লংঘণ করেছেন। মোটর শোভা যাত্রা থেকে শুরু করে হেলিকপ্টারে চরে নির্বাচনী প্রচারণা কি হয়নি এ নির্বাচনে। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে সরকারি বেসরকারি গণমাধ্যম ব্যবহারে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য কোনো বিধিমালা করতে পারে নি নির্বাচন কমিশন। তাই দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দল আ্্ওয়ামী লীগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে।
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত রাজনৈতিক ব্যয়ের চেয়ে এই প্রচারণা খরচ কয়েক গুন বেশি বই কম হবেনা। এছাড়া বিটিবি, বিটিবি ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ বেতার-কে যে হারে ক্ষমতাসীন দল ব্যবহার করেছে তাতে দেশে অন্য কোন দল আছে কিনা তা নিয়ে দেশে সংশয় দেখা দিয়েছিল। এক্ষেত্রে কমিশনের কোন ভূমিকাই আমরা দেখতে পাই নি।
এতো কিছুর পরও আমরা কমিশনকে সাধুবাদ জানাতে পারতাম যদি তারা বাকী ১৪৭ আসনের নির্বাচনকে নুন্যতম একটি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় উপস্থাপন করতে পারতেন। এক্ষেত্রেও তারা সরকারের ক্রীড়ানক হিসেবেই কাজ করলেন। কারণ এ নির্বাচনে কমপক্ষে ৮০ টি আসনে তীব্র প্রতিদ্ধন্ধিতা হবার কথা ছিল। স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা এক্ষেত্রে চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদেরকে সার্বিকভাবে নির্বাচনী মাঠে দাড়াতেই দেয়া হয়নি। তাই নির্বাচনের দিন ২৫ জন প্রার্থী নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন।
বিরোধী দল যেহেতু নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দেয়নি সেহেতু ভোটার উপস্থিতি কম থাকবে এটা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু যে হারে জাল জালিয়াতি করা হয়েছে তাতে বুঝা যায় সত্তর, ছিয়াশি আর ১৫ ফেব্র“য়ারির নির্বাচন থেকেও আরো সিদ্ধ হস্তে কাজটি সম্পাদন করতে এবং এ কাজের বৈধতা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল কমিশন। কারণ গণমাধ্যমের সরেজমিন অনুসন্ধানে ভোটের হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বেশী হবার কথা নয়। সেক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যবেক্ষক সংস্থা বলছে এ হার ৩০ শতাংশের বেশী নয়। আর নির্বাচন কমিশন বলছে ভোট প্রদানের এ হার ৪০ শতাংশ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ভোটের হিসেব মিলাতে হিমসিম খাচ্ছে কমিশন। সাংবাদিকদের সুস্পষ্ট কোনো তথ্যই দিতে পারছেনা তারা।
তবে আর যাই হোক রকিব কমিশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক গুলো নতুন ইতিহাস তৈরীতে সক্ষম হয়েছেন। তার জন্য ইতিহাস এ কমিশনকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারবে না। বিশ্বের নির্বাচনী ইতিহাসে এরকম কোনো ঘটনা আছে কিনা যে প্রায় অর্ধশত কেন্দ্রে একটি ভোটও কেউ দিতে যাননি। এমনকি শিশুদের পর্যন্ত জাল জালিয়াতির এই ভোটে কাজে লাগানো হয়েছে। অনেকে হয়তো বলবেন এ কাজগুলো সরকার করেছে, নির্বাচন কমিশনকে বলে লাভ কি? বাস্তবক্ষেত্রে এটি সত্য কিন্তু প্রায়োগিকভাবে এর দায় কমিশনেরই। এই কমিশন বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস হতে পারতেন যদি তারা দলদাস না হতেন। সেই সাথে বাংলাদেশ পেতো একটি শক্তিশালী কমিশন। রকিব কমিশনের এ অবৈধ কর্মকান্ড একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে ধ্বংস করে দিল। এর দায় তাদেরকেই নিতে হবে। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দু’টি বিষয় স্পষ্ট করেছে প্রথমত; নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাতিত বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দ্বিতীয়ত; দলীয় সরকার মনোনীত নির্বাচন কমিশনার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ।
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
ই-মেইল: imran.ansary@gmail.com
ভোট জালিয়াতির দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র শুরু হয়েছিল ‘আমরা বাংলাদেশের জনগন ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষনা করিয়া জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করিয়াছি’ এই বক্তব্য দিয়ে।
গোপন সনদে বাল্যবিয়ে জালিয়াতির ফাঁদে কিশোরীদের আইনি সুরক্ষা
সরকারি নিবন্ধন খাতাকে পাশ কাটিয়ে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় অবাধে ‘গোপন রেজিস্টারে’ চলছে নাবালক-নাবালিকাদের বাল্যবিয়ে। সরকারি নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিয়ের তথ্য আলাদা খাতায় সংরক্ষণ করছেন একশ্রেণীর অসাধু ম্যারেজ রেজিস্ট্রার (কাজী)। পরবর্তীতে ছেলে বা মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হলে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সরবরাহ করা হয় বিয়ের মূল নকল (কাবিননামা)। রেজিস্ট্রেশনের এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে আইনি সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন পুতুল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে সংস্থাটির তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
তালাক নিবন্ধনে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ডিজিটাল বিবাহ জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ ও বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শেয়ার জালিয়াতি মামলায় আসামি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি চুপ্পু
দুর্নীতি, প্রতারণা, প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের অর্থ লুট ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক জোগসাজশে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহলের মামলার আসামি পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ মামলায় তার সাথে রয়েছেন আরো ১৯ জন।
৮০ হাজার কোটি টাকা ঋণ ও শেয়ার জালিয়াতিতে চুপ্পুর কোম্পানিও জড়িত
সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও তার কোম্পানি জেএমসি বিল্ডার্সসহ এস আলমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো।
















