ছয় দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক পথে রাজশাহীর সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাসের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ রয়েছে মালবাহী ট্রাক, ট্যাংকলরিও।
গত ১৫ মে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে নসিমন, করিমন, ভটভটি পাওয়ারটিলার, ট্রাক্টরসহ অবৈধ যানবাহন বন্ধ করা না হলে ছয় দফা দাবিতে ২৯ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। একই দাবিতে ২০ মে বিকেল ৩টা থেকে ২১ মে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রতীকী পরিবহন ধর্মঘটও পালন করা হয়। ওই দিন বিকেলে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ থেকে একই দাবিতে পুনরায় ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে পরিবহন নেতারা জানান, এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ২৫ মে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হবে।
দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে রাজশাহী বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা ৬১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন গ্রুপের রাজশাহী শাখার সাধারণ সম্পাদক মুনজুর রহমান পিটারকে আহ্বায়ক, জেলা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলামকে যুগ্ম-আহ্বায়ক ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কামাল হোসেন রবিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদাক মুন্জুর রহমান পিটার জানান, ২১ মে রাজশাহী জেলা বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে ৬ দফা দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তার অংশ হিসেবে আজ ধর্মঘট শুরু হয়েছে।
রাজশাহী জেলা বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ৬ দফা দাবির মধ্যে অন্য দাবিগুলো হলো- সিএনজি, মাহেন্দ্রা, ত্রি-হুইলার, ইমা, রুট পারমিট বহির্ভূত এলাকায় চলাচল এবং রুট পারিমট দেওয়া বন্ধ করা, লিজ নেওয়া বিআরটিসি ও দ্বিতল বাস উপজেলা ভিত্তিক চলাচল বন্ধ করা, স্কেলের নামে ট্রাকের চাঁদাবাজি বন্ধ করা এবং সব ধরনের পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মুন্জুর রহমান পিটার বলেন, বিআরটিএ অনুমোদিত ও ফিটনেসবিহীন নসিমন, করিমন, ভটভটি, পাওয়ারটিলার, টাক্টরসহ অবৈধ যানবাহন সড়ক মহাসড়কে বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রশিক্ষণবিহীন চালকরা নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন নিয়ে দ্রুতগামী পরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে সড়ক পথে বাড়ছে প্রাণহানীর ঘটনা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলার বিভিন্ন থানার ইউএনও ও কতিপয় পৌর মেয়র ডাকের মাধ্যমে টাকা নিয়ে এসব চলাচলের ব্যবস্থা করছেন। যা আইনত তারা করতে পারেন না। এছাড়া সরকার কিছু সংখ্যক নিজস্ব মনোনীত ব্যক্তিকে বিআরটিসি বাস ভাড়া দিয়ে তা উপজেলা ভিত্তিক চালাচ্ছেন। এছাড়া দ্বিতল বাসগুলো উপজেলা ভিত্তিক নয়, টাউন সার্ভিস হিসেবে চলার কথা ছিল।
এসময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ৬ দফা দাবি মানা না হলে এর পর গোটা উত্তরবঙ্গ এবং সবশেষ গোটা দেশ অচল করে দেওয়া হবে। আর এবার কোনোক্রমেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল আলোচনা বা আশ্বাসে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের এ আন্দোলন স্থগিত হবে না।
[b]ঢাকা,২৫ শে মে (টাইম নিউজবিডি.কম)/কেএ[/b]
শ্রেণীহীন
রাজশাহীতে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে
ছয় দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগে রোববার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক পথে রাজশাহীর সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা





