[b]ঢাকা:[/b] রাজধানী ঢাকার অভ্যন্তরীন যেসব রুটে নগরের লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন তার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ হলো সদরঘাট থেকে গুলিস্তান হয়ে গাবতলী পর্যন্ত রুটটি। এই রুটে চলাচলকারী বাসের সংখ্যাও কয়েক হাজার। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে প্রায় সারারাতই নানা প্রয়োজনে এই রুটে যাতায়াত করেন অসংখ্য মানুষ।
অসহনীয় যানযটের নগরী হিসেবে পরিচিত এই ঢাকার এমন বেহাল দশার পেছনে এসব মানুষের ভূমিকাও নেহাত কম নয়। যেসব কারণে একসময়ের তিলোত্তমা ঢাকা এখন যানযটের নগরী, তার মধ্যে সদরঘাট থেকে গুলিস্তান হয়ে গাবতলীর পথে ধাবমান লাখো মানুষের মিছিল ও তাদের জন্য ব্যবহৃত যানও অন্যমত।
কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য এসব মানুষ কতটা দায়ী? তাদের কীইবা করার আছে? প্রতিদিনের এই যানযটের সবচেয়ে বড় ভূক্তভোগীতো তারা নিজেরাই।
আসলে আমাদের দেশের মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা হলো উদাসীনতা ও নিজ দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে কোনমতে পার পাওয়ার মানসিকতা। যেনতেনোভাবে নিজে পার হতে পারলেই যেন জীবন চলে। কোন ধরণের ঝুঁকি গ্রহণ করতে যেন কেউ রাজি নয়। সবাই চায় যাতে জীবন একটু সহজ হয়, চারপাশের অনিয়মগুলো দূর হোক, সর্বত্র ফিরে আসুক শৃংখলাবোধ। কিন্তু এজন্য একটু ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে কেউ রাজি নয়। অন্যরা কেউ সমস্যার সমাধান করে দিবেন, আর সে তা ভোগ করবেন। দেশের মানুষের একটি বড় অংশই এমন মানসিকতার অধিকারী। কী গ্রাম কী শহর সর্বত্রই যেন একই চিত্র।
এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে। সদরঘাট থেকে বুড়ীগঙ্গার কোল ঘেষে একটি বড় সড়ক কামরাঙ্গীর চর হয়ে চলে গেছে গাবতলীর দিকে। সদরঘাট থেকে এই সড়ক ধরে মাত্র পাঁচশো গজ পশ্চিম দিকে আগালেই দেখা যাবে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বললে ভুল হবে, কৃত্রিমভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাস্তায় এলোমেলোভাবে ট্রাক রেখে মালামাল উঠানামা করা হচ্ছে। আর এভাবেই রাজধানীর বুকে বিদ্যমান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সম্পূর্ণরুপে অকেজো হয়ে পড়েছে।
এবার আসা যাক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রসঙ্গে। এই অবস্থা নতুন নয়। ঢাকা শহরে এখন থেকে প্রায় ছয় বছর ধরে এমন দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আমার নিজেরই হয়েছে। ছয় বছর একটানা এই অনিয়ম দেখে এতটাই বিরক্ত হচ্ছি যে তার আগে এই রাস্তার দশা কী এমনই ছিল এই খবর নেয়ার ইচ্ছে পর্যন্ত মনে জাগেনি।
আমার সত্যি অবাক লাগে, যানযট নিয়ে এত আলোচনা হয়। সরকারের মন্ত্রী ও আমলারা এত পরিকল্পনার কথা আওড়ান। অথচ তাদের নাকের ডগায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে আছে বছরের পর বছর ধরে কোন যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই। এ অনিয়মের ব্যাপারটি যেন গা সওয়া হয়ে গেছে, কর্তৃপক্ষের যেন এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা বা দায়-দায়িত্ব নেই।
অন্যদিকে, ভূক্তভোগী মানুষের আচরণ দেখেও রীতিমতো অবাক হতে হয়। তাদের চোখের সামনে এভাবে তাদেরকে একটি রাস্তা ব্যবহার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে দিনের পর দিন। অথচ এর প্রতিবাদে তারা কিছুই করছেন না। কারো কাছে একটি দরখাস্ত, একটি মানববন্ধন বা এই জাতীয় ছোট খাটো কোন প্রতিবাদ কর্মসূচী পর্যন্ত তাদেরকে কখনো পালন করতে দেখা যায়নি।
এই সড়কটি সচল করা সম্ভব হলে, সদরঘাট ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ ঢাকার অভ্যন্তরে প্রবেশ না করে পাশ দিয়েই গাবতলী ও এর আশেপাশে অনায়াসেই চলে যেতে পারবেন। এভাবেই ঢাকার ভেতরে লাখো মানুষ ও তাদের জন্য ব্যবহৃত হাজারো গাড়ির চাপ কমানো যেতো খুব সহজেই। এতে ঢাকার যানযট কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলেই মনে করেন নগরবাসী।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এ লেখা কতটুকু আসবে জানিনা। আর নজরে আসলেও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ আদৌ নেয়া হবে কীনা কে জানে? যারা যত্র তত্র ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান রেখে সড়কটি অকেজো করে রেখেছে বছরের পর বছর ধরে তাদের হাত কতদূর লম্বা তাও বা কে জানে? তাদের অবৈধ অর্থের ভাগ কোন কোন মন্ত্রী ও এমপির দরবার পর্যন্ত নিয়মিত পৌঁছায় তার খবরই বা কে রাখে? তবে, কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের পাশাপাশি এখানকার মানুষও এ ব্যাপারে সোচ্চার হবেন এখনকার মতো এমনটাই প্রত্যাশা রাখছি।





