আজ রোববার বিশ্ব জলাভূমি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে।
জলাভূমি নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় গত ৩৯ বছরে দেশের জলাভূমি কমেছে ৬৫ লাখ হেক্টর। ‘জীবন ও জীব-বৈচিত্র সুরক্ষায় জলাভূমি ও এর পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’- এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে এ বছর দিবসটি পালন করা হবে। এবছরের প্রতিপাদ্য ‘জলাভূমি ও কৃষি’।
জাতিসংঘের আয়োজনে ১৯৯৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের জলাভূমির সংরক্ষণে জাতিসংঘের আয়োজনে ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইরানের রামসার বিশেষ সম্মেলন হয়েছিল। সেখানে গৃহীত স্মারকে বাংলাদেশও স্বাক্ষর করে। সেই থেকে প্রতিবছর ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হচ্ছে।
জলাভূমি ভরাট হয়ে শহর থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। পানি নিষ্কাশন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাড্ডা, সাঁতারকুল, খিলক্ষেত, রামপুরা, দক্ষিণ ও উত্তরখানের বেশিরভাগ এলাকা একসময় জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চল ছিল। গত এক যুগে এই জলাভূমি ও নিম্নাঞ্চলের ৯০ শতাংশ ভরাট হয়ে গেছে।
আমাদের এখন চর্চা হল, কি করে কম পানি লাগে, গাছের আকৃতি ছোট হয়। এতে বছরের পর বছর আমরা জলাভূমি পানি কমিয়ে ভরাট করে চাষাবাদের দিকে গিয়েছি, অথবা জলাভূমি ভরাট করার চেষ্টা করেছি। সরকারি পরিকল্পনা ও জ্ঞানীরা অধিক ধানের স্বপ্ন দেখিয়ে জলাভূমি, নদী, পানিসহ পুরো প্রকৃতিটিকেই ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। আমরা জলাভূমির প্রাণ বৈচিত্র হারিয়েছি, গভীর পানির ফসল হারিয়েছি, মাছ হারিয়েছি, পাতালের পানির স্তর নিচে নামিয়েছি। আর কি কি করলে আমাদের বংশ নির্বংশ হয়, সেই প্রচেষ্টা এখন চলছে।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় কিছু সবুজ বনানী, কৃষিজমি ও জলাশয় থাকলেও তা ধ্বংস হচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। এক যুগ আগেও সাভার, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জমি ছিল সবুজে ঢাকা, ছিল নদী ও জলাশয়। এক যুগে নগরায়ণ ও উন্নয়নের নামে এলাকাগুলো ধূসর এলাকায় পরিণত হয়েছে।
ঢাকা মহানগরের ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণ মাত্র ৩৫ বর্গকিলোমিটার, আর জলাভূমির পরিমাণ ৭০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে আবার রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংসদ ভবন লেক, ধানমণ্ডি, উত্তরা, বনানী, গুলশান লেকসহ মোট ১০টি পার্ক ও লেক মিলিয়ে ২০ কিলোমিটার এলাকা রয়েছে। এক যুগ আগেও ঢাকায় সবুজ এলাকা ছিল প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার, আর জলাভূমি ছিল ১০০ কিলোমিটারের বেশি। ২০০৫ সালে বাড্ডায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল ৫ দশমিক ৮৬ বর্গকিলোমিটার। ২০১০ সালে তা কমে হয় ৩ দশমিক ৯৫ বর্গকিলোমিটারে।
ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঢাকার জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ ৪৭টি খাল। কর্তৃপক্ষের আপোষী মনোভাবে ইতিমধ্যে ৪৭ থেকে ৪৩, ৪৩ থেকে ৩৭টি খালের অস্তিত্ব আজ কাগজে কলমে বিদ্যমান। আবার কাগজের অনেক খালের অবস্থান আজ ভূমিদস্যুর শপিংমল, বৃহৎ অট্টলিকা কিংবা ঋণ বাণিজ্যিক দাতা গোষ্ঠির পরিকল্পনায় উন্নয়নের নামে ড্রেন, রাস্তাঘাট কিংবা বক্স কালবার্টের নিচে অবস্থান নিয়েছে।
অট্টালিকা, মার্কেটের ফাঁদে ঢাকা শহর এখন প্রায় পুকুর শূন্য হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির দোহাই দিয়ে নদীগুলো শিল্প কারখানার বর্জ্য আর দখলে আজ মৃত। বর্ষায় ঢাকার চারপাশের যে নিচু জলাভূমি ছিল তা আজ বিভিন্ন আবাসিক কোম্পানি আর রাজউকের উন্নয়নের বলি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
[b]ঢাকা, ২ ফেব্রয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]