[b]ঢাকা: [/b]দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত এ হিসাব জানানো হয়।
এদিকে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী দশম নির্বাচনে ১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি।
বিভিন্ন মিডিয়া সূত্রে দেখা গেছে, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখ করার মতো নয়। কমবেশি ১৫-২০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়নি।
নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বরত সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ স্বপন জানান, ‘রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই ইসির কর্মকর্তাদের মুখে ২৯ ও ৩৯ সংখ্যা নিয়ে কানাঘুষা ছিল।’
সাংবাদিক হিসেবে অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন এই সিনিয়র সাংবাদিক। তার মতে, ‘এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কোনো অবস্থাতে ১২ শতাংশের বেশি নয়।’
দেশীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ও ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স (ফেমা) দাবি করেছে, নির্বাচনে সব মিলিয়ে গড়ে ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ফেমার প্রধান মুনিরা খান সাংবাদিকদের জানান, এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে গড়ে ১০ শতাংশেরও কম ভোটার ভোট দিয়েছেন।
মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ বলেন, ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটার ছিল খুবই স্বল্পসংখ্যক। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল শতকরা শূন্য ভাগ থেকে ১০ ভাগ পর্যন্ত।
ইসির কর্মকর্তারা রবিবার জানান, ভোটের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ।
দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক প্রথম আলো রবিবার রাজধানী ঢাকার ৮টি আসনের ১৯টি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে জানায়, ওই কেন্দ্রগুলোয় ২৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীর চিত্র থেকে দেশের অনান্য আসনগুলোর ভোটগ্রহণের অবস্থা বোঝা যাবে না। কেননা রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অনেক বেশি। যে কারণে এখানে ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হয়েছে।
বিভিন্ন আসনে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জালভোট দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের কাছ থেকে। এ অভিযোগে অনেক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।
ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এখলাছ উদ্দিন মোল্লা টাইম নিউজকে জাল ভোটের অভিযোগ করেন।
তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ ২২টি নিবন্ধিত দল এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ভোট প্রতিহত করতে সারাদেশে রবিবার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিও পালন করে বিএনপি। ভোটের আগের দিনও বিভিন্ন স্থানে ভোটকেন্দ্রে হামলা হয়। সহিংসতায় নিহত হয় অন্তত ১৯ জন। এ ছাড়া ২১ জেলার ৫৪৬ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। বন্ধ রাখা হয় ৮টি আসনের ভোটগ্রহণ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সহিংসতার এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এটাও ভোটার অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ।
আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন সমন্বয় উপ-কমিটির আহ্বায়ক মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, বিভিন্ন স্থানে কুয়াশার কারণে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল।
ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা চেষ্টা চালাচ্ছে ভোটার উপস্থিতি কোন অবস্থায় যাতে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির চেয়ে কম না হয়। উপস্থিতি অবশ্যই ২৬ দশমিক ৫৭ শতাংশের বেশি ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শ্রেণীহীন
নির্বাচন কমিশনের হিসেবে ভোট পড়েছে ৪০.৫৬ শতাংশ
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.৫৬ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত এ হিসাব জানানো হয়।





