যে মায়ের কারণে এ সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখতে পেয়েছে তার সন্তানেরা, সেই গর্ভধারীণি মা বৃদ্ধ হওয়ায় পরিবারের কাছে এখন যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ৮৫ বছরের মাকে বৃদ্ধাশ্রমে না দিয়ে কুমিল্লা থেকে গাড়িতে এনে বরিশালের গৌরনদীতে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে পাষাণ দুই ছেলে।
গত আটদিন ধরে অসহায় ওই বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হয়েছে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশ্ববর্তী গৌরনদী উপজেলার ব্যস্ততম টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি রাত থেকে হঠাৎ করে টরকী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পার্শ্বের রাস্তায় বসা অবস্থায় দেখা মেলে বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছার। সেই থেকে রাস্তার পাশেই তার আটদিন কেটে গেছে।
স্থানীয়রা বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছাকে কিছু খেতে দিলে সে খাচ্ছে, অন্যথায় অনাহারেই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে কিছু শীতবস্ত্রও দিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে কাঁপা কাঁপা স্বরে বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছা জানান, তার বাড়ি কুমিল্লায়। তার দুই ছেলে শামীম ও শাহিন, দুই মেয়ে নুরজাহান এবং শরিয়াতী বেগম। দুই ছেলে শামীম ও শাহিন তাকে গাড়িতে করে এখানে এনে বসিয়ে রেখেছে। এছাড়া সে (বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছা) আর কিছুই বলতে পারছেন না। কথাবলার ফাঁকে তিনি তার ছেলে শামীম ও শাহিনের নাম ধরে ডাক দিয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। আরাফাতুন নেছার গগণ বিদারী কান্নায় পুরো এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
সন্তানের প্রতি মায়ের যে কতো ভালবাসা তা বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছার আহাজারি না দেখলে কাউকে বোঝানো সম্ভব নয়। আর সেই সন্তানেরাই তার মাকে বৃদ্ধ হওয়ার কারণে পরিবারের কাছে বোঝা মনে করে কুমিল্লা থেকে গৌরনদীতে এনে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী জানান, বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছাকে তিনি তার বাড়িতে নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, বৃদ্ধা আরাফাতুন নেছার এখনো আত্মবিশ্বাস তার সন্তানেরা তাকে বাড়িতে নেওয়ার জন্য এখানেই আসবেন। এজন্য তাকে যেখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে সেই স্থান ত্যাগ করেছেন না তিনি। সন্তানেরা না আসা পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
[b]ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]