নানা কৌশলে সবুজায়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির আগ্রহ বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরে এ তথ্য পাওয়াগেছে। এই সবুজায়নের ফলে আর্থিক ভাবে যেমন লাভবান হবার সুযোগ রয়েছে, তেমনি অসহনীয় তাপমাত্রার কমাবার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। এছাড়াও সহজে পাওয়া যাবে অক্সিজন, সেই সঙ্গে ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং প্রচন্ড গরম তাপমাত্র অনেকটাই ধীরে ধীরে কমে আসবে এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশবাদীরা।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397751575.jpg[/img]
খোঁজনিয়ে জানাযায়, হালে নামকরা হাউজিং কোম্পানী এবং এপার্টমেন্টের ব্যবসায়ীরাও তাদের প্রস্তাবিত নকশায় ভবনের ছাদ ও বারান্দায় টবের মধ্যে লতা ও ফুল জাতীয় গাছ প্রতিস্থাপন শুরু করেছেন।
এছাড়া নগরীর এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে ভবন ও স্থাপনার ছাদে, কার্নিশে এবং বারান্দায় নানা জাতীয় আকর্ষণীয় ফুল, পাতা ও ফলের গাছ চোখে পড়ে না।
এদিকে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, স্থাপনার ছাদে এবং কার্নিশে, টবে কিংবা ড্রামে নানা ধরনের ফুল-ফল, সবজি ও লতা জাতীয় গাছ লাগানোর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এই নগরীকে রুফ গার্ডেনে পরিনত করা সম্ভব। তিনি বলেন, এই নগরীতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভবন ও স্থাপনা রয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে ভবনের সংখ্যা। আর কমছে খালি জমি, গাছ পালা ও সবুজায়ন। দিন দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জমির পরিমান কমতেই থাকবে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397751602.jpg[/img]
প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই নগরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ স্থাপনায় টবের মাধ্যমে সৌখিন লোকজন গাছ প্রতিস্থাপন করে তাদের আবাসস্থলকে একটি রুফ গার্ডেনে পরিনত করছেন। যদি ৬০ শতাংশ লোকজন স্ব-উদ্যোগে তাদের ভবনের ছাদ ও কার্নিশে গার্ডেনিং শুরু করেন, তাহলে এই নগরীর চিত্র পালটে যাবে। পরিবেশ উন্নয়ন হবে, নগরীর বৈরি তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসবে এবং নগরীর ভবন গুলো সবুজায়ন হবে। দূর থেকে মনে হবে প্রতিটি ভবনই একটি করে ঝুলন্ত বাগান।
তিনি বলেন, টবের মাধ্যমে ছাদের উপর পেয়ারা, করমচা, লেবু, পেপে, আঙ্গুর, কাঁচামরিচ, লাউ, ঢেড়স, ডাটা, পুঁইশাক, ধনে পাতা এবং নানা ধরণের ফলের চাষ করা সম্ভব। এতে আর্থিক ভাবে যেমন লাভবান হবার সুযোগ রয়েছে, তেমনি অক্সিজেন পাওয়া যাবে, ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে প্রচন্ড গরমে তাপমাত্র ধীরে ধীরে কমে আসবে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1397751637.jpg[/img]
তিনি বলেন, ভবনের মালিক নিজ দায়িত্বে যেভাবে তার ভবন স্থাপনায় ময়লা-আর্বজনা পরিষ্কারের পাশাপাশি টবের মাধ্যমে পছন্দ অনুযায়ী ফুল, ফল, লতা জাতীয় এবং সবুজ গাছ স্থাপন করে নিয়মিত পরিচর্যা করবেন।
প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সিংগাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচু ভবনে আধুনিক পদ্ধতিতে ন্যাচারাল গাছ স্থাপনের মাধ্যেমে গ্রীন বিল্ডিং করার কার্যক্রম চলছে। তবে আমাদের দেশে রাজধানীর ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, ওয়ারী, গুলশান, বনানী, মহাখালী, বাংলামটর, সেগুনবাগিচা, বারিধারা, ডিইউএইচএস এবং উত্তরাসহ অনেক এলাকায় মাঝে মধ্যে সীমিত আকারের বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনায় টবের মধ্যে ছোট ছোট ফুল ও লতাজাতীয় গাছ দেখা যায়।
ডিসিসির বিউটিফিকেশন সেলের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাসযোগ্য ঢাকা চাই সংগঠনের মহাসচিব প্রকৌশলী ইফতেখার বলেন, আশির দশক থেকে পরিবেশ সচেতন ও রুচিশীল লোকজন তাদের ভবন ও স্থাপনার কার্নিশে, ছাদে, বারান্দায় ও সিড়িঁর বর্ধিত স্থানে নানা জাতীয় গাছের টব স্থাপন বাড়িয়েছে। এর আগেও অনেকে আবার বাসা ও অফিসের ভেতর ছোট ছোট গাছের টব স্থাপন শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ২০০৫ সালে রাজধানীতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন ও সবুজায়নে 'বিউটিফিকেশন এবং বিজ্ঞাপনী সেল' গঠন করে ঢাকা সিটি করপোরেশন। নগরীর রাস্তার দুই পাশে, আইল্যান্ডে ও মোড়ে মোড়ে নানা ধরণের গাছ লাগানো হয়। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভবনে টবের মাধ্যমে স্থাপন করা হয় আকর্ষণীয় গাছে।
প্রকৌশলী ইফতেখার বলেন, গরমের সময় প্রচন্ড গরম আর শীতের সময় প্রচন্ড ঠান্ডার অন্যতম কারণ নগরীতে সবুজায়ন থেমে গেছে। আমাদের টার্গেট ছিল নগরীর প্রতিটি ভবনকে রুফ গার্ডেনে পরিণত করা। কিন্তু নানা কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচারনা দরকার। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রতিটি ভবন রুফগার্ডেনে পরিনত করা হবে।
[b]ঢাকা, একে, ১৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)//এএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
ছাদে সবুজায়নে আগ্রহ বাড়ছে
নানা কৌশলে সবুজায়ন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির আগ্রহ বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন অলিতে গলিতে ঘুরে এ তথ্য পাওয়াগেছে। এই সবুজায়নের ফলে আর্থিক ভাবে যেমন লাভবান





