পুলিশ কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ার্দার রাজধানীর উত্তরায় ১০ তলা বাড়ি এবং একাধিক প্লটসহ কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদসহ নানা অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
নাম না প্রকাশের শর্তে দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, রাজধানীর উত্তরায় ১০ তলা বাড়িসহ নামে-বেনামে রয়েছে আরও কয়েকটি বাড়ি। এছাড়া ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডেভলপার কোম্পানীর কাছ থেকে একাধিক প্লট নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদক এইসব অভিযোগ যাচাই বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1401540786.jpg[/img]
এদিকে পুলিশ সদর দফতরে কর্মরত এই পুলিশ কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা এলাকার নমশদ্র ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান তিনি। এককালে সামর্থবানদের আর্থিক সহযোগিতায় পড়াশুনা শেষে পুলিশে চাকরি নেন। এরপরই হঠাৎ রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ক্ষমতাধর এই পুলিশ কর্মকর্তা জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে। এছাড়া মিডিয়ায়ও এই পুলিশ কর্মকর্তার অবৈধ সম্পদ এবং নানা কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
ফলে শিগগিরই দুদক পুলিশ কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ার্দারের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগ যাচাই বাছাই এবং অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধভাবে ২০১১ সালের ১২ জুন রাজউক এর পূর্বাচল থেকে ৩ কাঠার একটি প্লট নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। পরে মাত্র এক মাসের মাথায় তা পরিবর্তন করেন। তিনি প্রথমে উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের ১৬-ই নং প্লট এবং পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৪ এপ্র্রিল উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের রাজউকের লেকের পাশে পার্ক এর জন্য সংরক্ষিত স্থানে ৬ কাঠার ২৬ নম্বর প্লট দখলে নেন। এই প্লটেই নিজস্ব অর্থায়নে তিনি ১০ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সহকারি পরিচালক (এডি) পদে চাকরি নেন প্রলয় কুমার জোয়ার্দার। পরে চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে নানা কারণে এনএসআই থেকে তিনি চাকুরিচ্যুত হন এমন অভিযোগও রয়েছে। ২০০৩ সালে চাকরিচ্যুতকালে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগদান করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা জোয়ারর্দার। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপট ও আধিপত্যেও মাধ্যমে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারের পদে থেকে ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার করতে থাকেন। এ কারণে তাকে ওই পদ থেকে অপসারণ করে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়।
এখানে এসেও তিনি কতিপয় আইজিপিকে ম্যানেজ করে ভারপ্রাপ্ত এআইজি হিসেবে (পি এন্ড আর) নিয়োগ বাগিয়ে নেন। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে এত জুনিয়র ও দুর্নীতি পরায়ন কোনো কর্মকর্তাকে এআইজি হিসেবে ইতোপূর্বে নিয়োগ দেয়ার রেকর্ড নেই।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগে রয়েছে,পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের মধ্যে বিভাজন ও গ্রুপিংয়ের জন্য একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এখন পুলিশে সবধরনের নিয়োগ, বদলী ও পদায়নসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে আধিপত্য বিস্তার করছে।ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভ এবং অসন্তুষ বিরাজ করছে।
[b]ঢাকা,একে, ৩১মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসআর
[/b]
শ্রেণীহীন
পুলিশ কর্মকর্তার উত্তরায় বাড়িসহ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
পুলিশ কর্মকর্তা প্রলয় কুমার জোয়ার্দার রাজধানীর উত্তরায় ১০ তলা বাড়ি এবং একাধিক প্লটসহ কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। তার বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ সম্পদসহ নানা অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।





