যশোরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য একনজরে তুলে ধরতে এক অনন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। জেলা কালেক্টরেট চত্বরে নির্মিত ‘ঐতিহ্য’ নামের শৈল্পিক এ স্থাপনাটি থেকে পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে জেনে নিতে পারবেন জেলার সার্বিক তথ্য। শনিবার রাতে এ শিল্পকর্মটি উদ্বোধন শেষে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পাথরের চারপাশে ঢালাই দিয়ে জেলার ৮ উপজেলার মানচিত্র স্থাপন করা হয়েছে। মানচিত্রে আলোর ঝলকানি দিতে সংযুক্ত করা হয়েছে ঝর্ণা ও আলোর। মুক্তিযুদ্ধে যশোরের যে অবদান সেখানে অল্পকথায় তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ এ জেলায় প্রথম স্বাধীন পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর পরদিন শহরের টাউন হল মায়দানে মুক্তিকামীরা মিছিল করলে পাকহানাদাররা গুলি চালায়। এতে জেলায় প্রথম শহীদ হন চারুবালা কর।
১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেলার ঝিকরগাছার গোয়ালহাটি গ্রামে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে। এসব তথ্যসহ আরও বীরত্বগাঁথা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্থান পেয়েছে এতে।
যশোরের ঐশ্বর্য ও ঐতিহ্যের মধ্যে পঞ্চাশের দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্রের অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের পৈত্রিক ভিটা, বেনাপোল স্থলবন্দর, কায়েমকোলা মসজিদ, অভয়নগরের রাজবাড়ি, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের স্মৃতিসৌধ, কালেক্টরেট ভবন, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের পৈত্রিকবাড়ি,  কেশবপুরের ভরত ভায়নার দেউল, মির্জানগর হাম্মামখানা, গরীবশাহ মাজার, হাজী মোহাম্মদ মহাসিনের ইমামবাড়া, যশোর বিমানবন্দর রয়েছে। যশোরের বিখ্যাত খেজুরের গুড়, নকশি কাঁথা, সবজি ও ফুল এবং রেণুপোনাকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পাশাপাশি যশোরের প্রশাসনিক ইতিহাস ও রাজাদের শাসনামল সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোরের অধীনে খুলনা, ফরিদপুর, পাবনা, নদীয়া ও চব্বিশ পরগণা জেলার অধিকাংশ এলাকা ছিল বলে নতুন প্রজন্মের কাছে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সম্রাট আকবর যশোর অঞ্চলে ইনায়েত খাঁকে ফৌজদার নিয়োগ করেন। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ এর শাসনামলে রাজা সীতারাম রায় শাসন করতেন। এভাবেই ইতিহাসের পরিক্রমায় ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
এছাড়া নির্মিত এই ঐতিহ্যে যশোরের ভৌগলিক অবস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যও সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে এ রকম একটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মানুষের তথ্য জানানোর পাশাপাশি এরকম একটি স্থাপত্য নির্মাণের মধ্যে দিয়ে জেলার সৌন্দর্য বিকশিত হবে।
তিনি বলেন, এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে ছয় লাখ টাকা। নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। যশোর এসএম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ শামীম ইকবাল ডিজাইন করেছেন। এর সাথে সহযোগিতা করেছেন কলেজের দুই ছাত্র সবুজ ও সুমন ।
রাতে ‘ঐতিহ্য’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএএম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহিদ হোসেন পনির, জেলা নেজারত ডেপুটি কালেক্টর নাজমুল আলম প্রমুখ।
[b]ঢাকা: কেএ ৮ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম)//[/b]