নোয়াখালী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে সাড়ে ১৮ হাজার একর জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার কমিশন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসককে এ সংক্রান্ত সব নথিপত্র চেয়ে চিঠি দিয়েছে।  
আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব কাগজপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।  দুদকের উপপরিচালক যতন কুমর রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যতন কুমর রায় জানান, শাহজাহানের বিরুদ্ধে বহু পূর্বেই দুদকে অভিযোগটি ছিল। এর আগেও এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে দুদক। গত ডিসেম্বরে কমিশন কমিটি পুনর্গঠন করে পুনরায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। দুদক ২০০২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত নোয়াখালী জেলার চিংড়ি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের অনুলিপি চেয়েছে।
এ ছাড়া ২০০২ সালের ২১ নভেম্বর তারিখের জে:প্র:/নোয়া/ চিংড়ি/এস.এ/১৩-৩০/০০২/১৮৯৮ নম্বর স্মারক এবং ২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারির জে:প্র:/নোয়া/এস.এ/৯-৩৭/০৩-৩৬ নম্বর স্মারক ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ২০০৩ সালের ৬ মে তারিখের ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাজব/৬০০/২০০২/৩২০ নম্বর স্মারক চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর তারিখ থেকে ২০০৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভার রেজ্যুলেশনের অনুলিপি ও  নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের ২০০৪ সালের ১২ মে তারিখের স্মারক নং জে:প্র:/নোয়া/এস.এ/১৩-৩০/২০০৪-৬৪৩, ৬৪৬,৬৪৫,৬৪২ এবং ৬৪৪ নম্বর স্মারক সংশ্লিষ্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র দুদক চেয়েছে।  
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই সংসদ সদস্য বিএনপি সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাবশালীদের স্বার্থে চিংড়ি মহাল হিসেবে ১৮ হাজার ৬৫৭ দশমিক ১৫ একর জমি অবৈধভাবে দখল করেন।
২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুদকে এলে তৎকালীন কমিশন তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। যার ঢাকার নথি নম্বর দুদক/১২৮-২০০৮ নোয়াখালী/ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২। এরপর দুদকের সহকারী পরিচালক শফিউল আলমকে অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন কমিশন অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুমোদন দেয়নি। পরবর্তীতে বেশ কিছুদিন এই অনুসন্ধান কাজ বন্ধ ছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান কমিশন বিষয়টি পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়। পরিচালক মো. আবু তোরাবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করে। যার অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক যতন কুমার রায় ও সহকারী পরিচালক শফিউল আলম।
[b]ঢাকা, বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]