গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পাওয়া পোকা জায়ান্ট মিলিবাগ এখনই দমন করা না হলে তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার সচিবালয়ে জায়ান্ট মিলিবাগ পোকা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ তথ্য জানান।
নাহিদ বলেন,আমাদের সবাইকে এখনই সতর্ক হতে হবে। তা না হলে আমাদের ফসল,প্রকৃতি,ফুল,ফল ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন,এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। আশা করি সবাই যার যার অবস্থান থেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন।
এ পোকাগুলো দেশে আসার বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রজ্জব আলী সাংবাদিকদের বলেন,জায়ান্ট মিলিবাগ ভারতে ও পাকিস্তানে দেখতে পাওয়া যায়। নিয়ম ভেঙ্গে সীমান্ত দিয়ে গাছ জাতীয় জিনিস আনার মাধ্যমে এ পোকা দেশে আসতে পারে।
তিনি জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে ফেরা সদস্যদের মাধ্যমে এদেশে ঢুকে থাকতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বাশার নতুন কোথাও এ পোকা দেখা দিলে পানি ছিটানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন,পানি ছিটালে পোকার শরীরের ধুলায় ক্ষতি হবে না। বংশ বিস্তারও করতে পারবে না এরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আবুল মঞ্জুর খান বলেন,এখনই যদি আমরা এ পোকা দমনের ব্যবস্থা নেই তবে তা মহামারী আকারে তা ছড়িয়ে পড়বে না।
শিক্ষামন্ত্রী বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন,জায়ান্ট মিলিবাগ আফ্রিকা মহাদেশের পোকা। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মাটির নিচে থাকা ডিম থেকে বের হয়ে পোকাগুলো আশেপাশের গাছে ওঠে।
তিনি বলেন, এরা মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত গাছ থেকে খাবার খেয়ে বড় হয়। এরপর এগুলো ডিম পাড়ার জন্য আবার মাটিতে ফিরে আসে। সাধারণত ১ দশমিক ৫ সে.মি. মাটির নিচে এগুলো ডিম পাড়ে। প্রতিটি পোকা ২০০ থেকে ৪০০টি ডিম পাড়ে। পোকার গায়ে মোমজাতীয় পদার্থ থাকায় সাধারণ কীটনাশক কার্যকরী হয় না।
এ পোকা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন,পোকা সংগ্রহ করে করে মাটিতে দেড়-দুই ফুট গর্ত করে পুতে রাখতে হবে বা পুড়িয়ে মারতে হবে। গাছের গোড়ার চারদিকে মসৃণ এসএস শীট বা প্লাস্টিক ব্যান্ড দিয়ে ঘিরে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এটি প্রতিরোধে ক্লাসিক বা ডার্সব্যান ২০ইসি বা ফিপরোনিল প্রতি লিটার পানিতে ৫ এমএল মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের উঁচু মই,সিটি কর্পোরেশনের পাওয়ার স্প্রে এবং খামারবাড়ির প্লান্ট প্রোটেকশন বিভাগের কীটনাশক দিয়ে যৌথভাবে কলেজের সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে।
[b]ঢাকা, ২০ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
মিলিবাগ দমনে ব্যর্থ হলে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পাওয়া পোকা জায়ান্ট মিলিবাগ এখনই দমন করা না হলে তা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা





